০৩:১৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০১ অগাস্ট ২০২৬, ১৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

হালুয়াঘাটে অসহায় বৃদ্ধের বসতভিটা দখলের চেষ্টা ও মিথ্যা মামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন

নিজেস্ব প্রতিবেদক:
  • প্রকাশের সময় ০৬:২২:৫৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬
  • / ৭ Time View

ময়মনসিংহের  হালুয়াঘাটে প্রায় ২৫ বছর ধরে বসবাসরত এক অসহায় বৃদ্ধের বসতভিটা জোরপূর্বক দখলের চেষ্টা এবং একের পর এক মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানির অভিযোগ উঠেছে শাকুয়াই ইউনিয়ন ভূমি অফিসের সাবেক এক পিয়নের বিরুদ্ধে।

অভিযুক্ত সিরাজ আলী ও তার মেয়ে শিরিনা আক্তারের অপকর্মের বিরুদ্ধে গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে উপজেলার শাকুয়াই বাজারে ‘এলাকাবাসী ও ভুক্তভোগী পরিবার’-এর ব্যানারে এক বিশাল মানববন্ধন ও প্রতিবাদ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

 

মানববন্ধনে ভুক্তভোগী পরিবার ও এলাকাবাসী জানান, ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া উপজেলার বাসিন্দা সিরাজ আলী চাকুরির সুবাদে হালুয়াঘাটের শাকুয়াই এলাকায় বসবাস শুরু করেন। প্রায় ২৫ বছর আগে স্থানীয় শাকুয়াই ইউনিয়নের তৎকালীন চেয়ারম্যান মরহুম আবদুর রহিম খান গৃহহীন ও অসহায় লিয়াকত আলীকে ২৫ শতাংশ সরকারি জমিতে স্ত্রী-সন্তান নিয়ে বসতভিটা গড়ে তোলার সুযোগ দেন। কিন্তু সিরাজ আলী ইউনিয়ন ভূমি অফিসে পিয়ন পদে চাকুরির সুবাদে নিজের প্রভাব খাটিয়ে সুকৌশলে ওই জমির ইজারা (লিজ) নিজের নামে করিয়ে নেন।

 

মানববন্ধনে ক্ষোভ প্রকাশ করে স্থানীয় বক্তারা প্রশ্ন তোলেন,”দীর্ঘ ২৫ বছর ধরে একটি পরিবার সশরীরে একটি জমিতে বসবাস করা সত্ত্বেও স্থানীয় ভূমি প্রশাসন কীভাবে অন্য এক ব্যক্তির নামে সেই জমির লিজ অনুমোদন করল? লিজ নেওয়ার পর থেকেই সিরাজ পিয়ন ও তার মেয়ে শিরিনা আক্তার জমিটি খালি করতে ষাটোর্ধ্ব লিয়াকত আলীকে নানাভাবে ভয়ভীতি ও হুমকি দিয়ে আসছিলেন। এতেও কাজ না হওয়ায় লিয়াকত আলীর ১৩ বছরের নাবালক নাতির বিরুদ্ধে একটি ভিত্তিহীন ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন শিরিনা।

 

উক্ত মামলার কথিত সাক্ষী ঝর্ণা বেগম মানববন্ধনে উপস্থিত হয়ে প্রকাশ্যে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,

“আমি এই ধরণের কোনো ঘটনা দেখিনি, শুধু লোকমুখে শুনেছি। অথচ আমাকে না জানিয়েই তারা সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মামলায় সাক্ষী বানিয়ে দিয়েছে।”

 

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, সিরাজ পিয়ন ও তার মেয়ের ক্রমাগত হয়রানি এবং ভুয়া মামলার খরচে অসহায় পরিবারটি আজ আর্থিকভাবে সর্বস্বান্ত ও মানসিকভাবে চরম বিপর্যস্ত। মিথ্যা মামলা দ্রুত প্রত্যাহার, জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং ভুক্তভোগী পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিতে স্থানীয় প্রশাসন ও উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের আশু হস্তক্ষেপ দাবি করেন তারা।

এদিকে ভুক্তভোগী পরিবার ও এলাকাবাসী মানববন্ধন করায় ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন অভিযুক্ত শিরিনা আক্তার। তিনি কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া নারীদের ওপর চড়াও হয়ে অশালীন গালিগালাজ ও মারমুখী আচরণ করেন। পরবর্তীতে পেশাগত দায়িত্ব পালনে ঘটনাস্থলে সাংবাদিকরা পৌঁছালে অভিযুক্ত নারী সংবাদকর্মীদের ওপরও চরমভাবে ক্ষিপ্ত হন এবং দুর্ব্যবহার করেন।

Please Share This Post in Your Social Media

হালুয়াঘাটে অসহায় বৃদ্ধের বসতভিটা দখলের চেষ্টা ও মিথ্যা মামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন

প্রকাশের সময় ০৬:২২:৫৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬

ময়মনসিংহের  হালুয়াঘাটে প্রায় ২৫ বছর ধরে বসবাসরত এক অসহায় বৃদ্ধের বসতভিটা জোরপূর্বক দখলের চেষ্টা এবং একের পর এক মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানির অভিযোগ উঠেছে শাকুয়াই ইউনিয়ন ভূমি অফিসের সাবেক এক পিয়নের বিরুদ্ধে।

অভিযুক্ত সিরাজ আলী ও তার মেয়ে শিরিনা আক্তারের অপকর্মের বিরুদ্ধে গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে উপজেলার শাকুয়াই বাজারে ‘এলাকাবাসী ও ভুক্তভোগী পরিবার’-এর ব্যানারে এক বিশাল মানববন্ধন ও প্রতিবাদ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

 

মানববন্ধনে ভুক্তভোগী পরিবার ও এলাকাবাসী জানান, ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া উপজেলার বাসিন্দা সিরাজ আলী চাকুরির সুবাদে হালুয়াঘাটের শাকুয়াই এলাকায় বসবাস শুরু করেন। প্রায় ২৫ বছর আগে স্থানীয় শাকুয়াই ইউনিয়নের তৎকালীন চেয়ারম্যান মরহুম আবদুর রহিম খান গৃহহীন ও অসহায় লিয়াকত আলীকে ২৫ শতাংশ সরকারি জমিতে স্ত্রী-সন্তান নিয়ে বসতভিটা গড়ে তোলার সুযোগ দেন। কিন্তু সিরাজ আলী ইউনিয়ন ভূমি অফিসে পিয়ন পদে চাকুরির সুবাদে নিজের প্রভাব খাটিয়ে সুকৌশলে ওই জমির ইজারা (লিজ) নিজের নামে করিয়ে নেন।

 

মানববন্ধনে ক্ষোভ প্রকাশ করে স্থানীয় বক্তারা প্রশ্ন তোলেন,”দীর্ঘ ২৫ বছর ধরে একটি পরিবার সশরীরে একটি জমিতে বসবাস করা সত্ত্বেও স্থানীয় ভূমি প্রশাসন কীভাবে অন্য এক ব্যক্তির নামে সেই জমির লিজ অনুমোদন করল? লিজ নেওয়ার পর থেকেই সিরাজ পিয়ন ও তার মেয়ে শিরিনা আক্তার জমিটি খালি করতে ষাটোর্ধ্ব লিয়াকত আলীকে নানাভাবে ভয়ভীতি ও হুমকি দিয়ে আসছিলেন। এতেও কাজ না হওয়ায় লিয়াকত আলীর ১৩ বছরের নাবালক নাতির বিরুদ্ধে একটি ভিত্তিহীন ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন শিরিনা।

 

উক্ত মামলার কথিত সাক্ষী ঝর্ণা বেগম মানববন্ধনে উপস্থিত হয়ে প্রকাশ্যে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,

“আমি এই ধরণের কোনো ঘটনা দেখিনি, শুধু লোকমুখে শুনেছি। অথচ আমাকে না জানিয়েই তারা সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মামলায় সাক্ষী বানিয়ে দিয়েছে।”

 

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, সিরাজ পিয়ন ও তার মেয়ের ক্রমাগত হয়রানি এবং ভুয়া মামলার খরচে অসহায় পরিবারটি আজ আর্থিকভাবে সর্বস্বান্ত ও মানসিকভাবে চরম বিপর্যস্ত। মিথ্যা মামলা দ্রুত প্রত্যাহার, জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং ভুক্তভোগী পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিতে স্থানীয় প্রশাসন ও উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের আশু হস্তক্ষেপ দাবি করেন তারা।

এদিকে ভুক্তভোগী পরিবার ও এলাকাবাসী মানববন্ধন করায় ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন অভিযুক্ত শিরিনা আক্তার। তিনি কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া নারীদের ওপর চড়াও হয়ে অশালীন গালিগালাজ ও মারমুখী আচরণ করেন। পরবর্তীতে পেশাগত দায়িত্ব পালনে ঘটনাস্থলে সাংবাদিকরা পৌঁছালে অভিযুক্ত নারী সংবাদকর্মীদের ওপরও চরমভাবে ক্ষিপ্ত হন এবং দুর্ব্যবহার করেন।