০২:৪৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬, ২০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রাতে মায়ের বকুনি দুপুরে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা কিশোরীর

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি:
  • প্রকাশের সময় ০৬:৩৬:১৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩ জুন ২০২৬
  • / ৯ Time View
রাঙ্গুনিয়া পারিবারিক কারণে শাসন ও বকা দেওয়ায় সিলিং ফ্যানের সাথে রশি পেঁচিয়ে গলায় ফাঁস দিয়ে আসমাউল হুসনা (১৫) নামের এক কিশোরী আত্মহত্যা করেছে। সে রাঙ্গুনিয়া আলমশাহ পাড়া মাদ্রাসার ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী।
বুধবার (৩ জুন) দুপুর দেড়টায় উপজেলার লালানগর ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ডের ঘাগড়া খিলমোগল গ্রামে ঘাগড়া ব্রিজ সংলগ্ন ইউনুচ ম্যানশনের চতুর্থ তলায় এ ঘটনা ঘটে।
আসমাউল হুসনা উপজেলার পারুয়া ইউনিয়নের ০৬নং ওয়ার্ডের জঙ্গল পারুয়া গ্রামের মাও. আরিফুল ইসলামের মেয়ে। তারা পরিবারসহ ঘাগড়া খিলমোগলের ঘাগড়া ব্রিজ সংলগ্ন ইউনুচ ম্যানশনের চতুর্থ তলায় ভাড়া বাসায় বসবাস করত।
তবে কি কারণে আসমাউল হুসনা আত্মহত্যার পথ বেছে নিল তাৎক্ষনিক পুলিশ তা জানাতে পারে নি।
পরিবার সুত্রে জানা যায়, নিহতের বাবা চাকরির সুবাধে হাটহাজারী থাকেন। মঙ্গলবার রাতে আসমার মা নুর ফাতেমা মেয়েকে পারিবারিক কারণে শাসন করেছিলেন। আজ সকালে ছোট ভাই বোনকে আসমার কাছে রেখে মা তার নানার বাড়ীতে যান। এই ফাঁকে দুপুরে সবার অগোচরে ঘরের দরজা বন্ধ করে সিলিংয়ের সঙ্গে রশি পেঁচিয়ে গলায় ফাঁস দেয় আসমা। এরপর দুপুরে নানার বাড়ী থেকে বাসায় ঢুকে দেখে শয়ন কক্ষের পাশের রুমের দরজা বন্ধ। মেয়ের কোনও সাড়া না পেয়ে বন্ধ দরজার পাশে ডাকাডাকি শুরু করেন মা নুর ফাতেমা।একপর্যায়ে দরজা ভেঙ্গে দেখে সিলিং ফ্যানের সাথে রশি পেঁছিয়ে গলায় ফাঁস লাগানো অবস্থায় ঝুলছে আসমা। পরে পুলিশকে খবর দিলে খবর পেয়ে থানার রাঙ্গুনিয়া মডেল থানার এসআই দেলোয়ার হোসেন এসে আসমাকে ফাঁস থেকে খুলে এবং থানায় নিয়ে যায়।
রাঙ্গুনিয়া থানার উপ-পরিদর্শক (এস আই) দেলোয়ার হোসেন জানান, দুপুর দেড়টায় ‘আত্মহত্যার খবর পেয়ে ১টা ৪৫ মিনিটে ঘটনাস্থলে এসেছি। এসেই কিশোরীর লাশ উদ্ধার করা হয়েছে এবং লাশ থানায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।
এ ব্যাপারে রাঙ্গুনিয়া মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. জহির উদ্দিন বলেন, ‘দুপুর দেড়টার দিকে লালানগর ইউনিয়নের ঘাগড়া ব্রিজ সংলগ্ন ইউনুচ ম্যানশনের চতুর্থ তলা থেকে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে রশি দিয়ে গলায় ফাঁস দেওয়া ১৫ বছরের এক কিশোরীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে এটিকে আত্মহত্যা বলে ধারণা করা হচ্ছে। লাশের প্রাথমিক সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হবে। নিহতের পিতা বাদী হয়ে থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে।’

Please Share This Post in Your Social Media

রাতে মায়ের বকুনি দুপুরে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা কিশোরীর

প্রকাশের সময় ০৬:৩৬:১৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩ জুন ২০২৬
রাঙ্গুনিয়া পারিবারিক কারণে শাসন ও বকা দেওয়ায় সিলিং ফ্যানের সাথে রশি পেঁচিয়ে গলায় ফাঁস দিয়ে আসমাউল হুসনা (১৫) নামের এক কিশোরী আত্মহত্যা করেছে। সে রাঙ্গুনিয়া আলমশাহ পাড়া মাদ্রাসার ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী।
বুধবার (৩ জুন) দুপুর দেড়টায় উপজেলার লালানগর ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ডের ঘাগড়া খিলমোগল গ্রামে ঘাগড়া ব্রিজ সংলগ্ন ইউনুচ ম্যানশনের চতুর্থ তলায় এ ঘটনা ঘটে।
আসমাউল হুসনা উপজেলার পারুয়া ইউনিয়নের ০৬নং ওয়ার্ডের জঙ্গল পারুয়া গ্রামের মাও. আরিফুল ইসলামের মেয়ে। তারা পরিবারসহ ঘাগড়া খিলমোগলের ঘাগড়া ব্রিজ সংলগ্ন ইউনুচ ম্যানশনের চতুর্থ তলায় ভাড়া বাসায় বসবাস করত।
তবে কি কারণে আসমাউল হুসনা আত্মহত্যার পথ বেছে নিল তাৎক্ষনিক পুলিশ তা জানাতে পারে নি।
পরিবার সুত্রে জানা যায়, নিহতের বাবা চাকরির সুবাধে হাটহাজারী থাকেন। মঙ্গলবার রাতে আসমার মা নুর ফাতেমা মেয়েকে পারিবারিক কারণে শাসন করেছিলেন। আজ সকালে ছোট ভাই বোনকে আসমার কাছে রেখে মা তার নানার বাড়ীতে যান। এই ফাঁকে দুপুরে সবার অগোচরে ঘরের দরজা বন্ধ করে সিলিংয়ের সঙ্গে রশি পেঁচিয়ে গলায় ফাঁস দেয় আসমা। এরপর দুপুরে নানার বাড়ী থেকে বাসায় ঢুকে দেখে শয়ন কক্ষের পাশের রুমের দরজা বন্ধ। মেয়ের কোনও সাড়া না পেয়ে বন্ধ দরজার পাশে ডাকাডাকি শুরু করেন মা নুর ফাতেমা।একপর্যায়ে দরজা ভেঙ্গে দেখে সিলিং ফ্যানের সাথে রশি পেঁছিয়ে গলায় ফাঁস লাগানো অবস্থায় ঝুলছে আসমা। পরে পুলিশকে খবর দিলে খবর পেয়ে থানার রাঙ্গুনিয়া মডেল থানার এসআই দেলোয়ার হোসেন এসে আসমাকে ফাঁস থেকে খুলে এবং থানায় নিয়ে যায়।
রাঙ্গুনিয়া থানার উপ-পরিদর্শক (এস আই) দেলোয়ার হোসেন জানান, দুপুর দেড়টায় ‘আত্মহত্যার খবর পেয়ে ১টা ৪৫ মিনিটে ঘটনাস্থলে এসেছি। এসেই কিশোরীর লাশ উদ্ধার করা হয়েছে এবং লাশ থানায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।
এ ব্যাপারে রাঙ্গুনিয়া মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. জহির উদ্দিন বলেন, ‘দুপুর দেড়টার দিকে লালানগর ইউনিয়নের ঘাগড়া ব্রিজ সংলগ্ন ইউনুচ ম্যানশনের চতুর্থ তলা থেকে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে রশি দিয়ে গলায় ফাঁস দেওয়া ১৫ বছরের এক কিশোরীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে এটিকে আত্মহত্যা বলে ধারণা করা হচ্ছে। লাশের প্রাথমিক সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হবে। নিহতের পিতা বাদী হয়ে থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে।’