২১ পরীক্ষার্থীর বিপরীতে ১৮ শিক্ষক, পাস করলেন মাত্র ৩ জন

ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট উপজেলার জয়রামকুড়া দারুস সুন্নাত দাখিল মাদ্রাসায় ২০২৬ সালের দাখিল পরীক্ষার ফলাফলে বিপর্যয় ঘটেছে। এ বছর প্রতিষ্ঠানটি থেকে ২১ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়ে পাস করেছেন মাত্র ৩ জন। ফেল করেছেন ১৮ জন। ফলে পাসের হার দাঁড়িয়েছে মাত্র ১৪ দশমিক ২৯ শতাংশে।
২০০০ সালে প্রতিষ্ঠিত এই মাদ্রাসায় বর্তমানে শিক্ষক রয়েছেন ১৮ জন। এ ছাড়া কর্মচারী রয়েছেন চারজন। মাত্র ২১ জন পরীক্ষার্থীর বিপরীতে ১৮ জন শিক্ষক থাকলেও এমন ফলাফল নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, শিক্ষার্থীদের নিয়মিত ক্লাসে উপস্থিতি, শিক্ষকদের পাঠদান, অভিভাবকদের নজরদারি এবং পরীক্ষার প্রস্তুতি আরও জোরদার করা প্রয়োজন। পাশাপাশি ধারাবাহিকভাবে খারাপ ফল করা প্রতিষ্ঠানগুলোতে শিক্ষা বিভাগের কার্যকর নজরদারি ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার দাবি উঠেছে।
ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা গেছে, উত্তীর্ণ তিন শিক্ষার্থীর মধ্যে দুজন জিপিএ ৩.০০ থেকে ৩.৯৯ এবং একজন জিপিএ ২.০০ থেকে ২.৯৯ পেয়েছেন। এ বছর প্রতিষ্ঠানটি থেকে কোনো শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ বা জিপিএ-৪ অর্জন করতে পারেননি।
গত কয়েক বছরের ফলাফলের তুলনায় এবার প্রতিষ্ঠানটির পাসের হার আশঙ্কাজনকভাবে কমেছে। ২০২৫ সালে ২৪ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৯ জন পাস করে পাসের হার ছিল ৩৭ দশমিক ৫০ শতাংশ। ২০২৪ সালে ২৭ জনের মধ্যে ২২ জন পাস করে হার ছিল ৮১ দশমিক ৪৮ শতাংশ। ২০২৩ সালে পাসের হার ছিল ৬০ দশমিক ৮৭ শতাংশ এবং ২০২২ সালে ৬৯ দশমিক ৫৭ শতাংশ।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যক্তি প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা ও দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁর অভিযোগ, প্রতিষ্ঠানপ্রধান একই সঙ্গে নিকাহ রেজিস্ট্রার (কাজী) হিসেবে দায়িত্ব পালন করায় এর কোনো প্রভাব প্রতিষ্ঠানের প্রশাসনিক ও শিক্ষাকার্যক্রমে পড়ছে কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে প্রতিষ্ঠানপ্রধানের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এদিকে মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে হালুয়াঘাট পরীক্ষা কেন্দ্রের আওতায় থাকা ১৫টি প্রতিষ্ঠানের ২০২৬ সালের দাখিল পরীক্ষার ফলাফলেও খুব একটা সন্তোষজনক চিত্র পাওয়া যায়নি। কেন্দ্রটিতে মোট ৪০৬ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেন। তাঁদের মধ্যে ১৬৩ জন পাস এবং ২৪৩ জন ফেল করেছেন। কেন্দ্রের সার্বিক পাসের হার ৪০ দশমিক ১৪ শতাংশ। এ বছর এ কেন্দ্রের অধীনে কোনো পরীক্ষার্থী জিপিএ-৫ অর্জন করতে পারেননি।
প্রতিষ্ঠানভিত্তিক ফলাফলে সবচেয়ে বেশি পাসের হার ধুরাইল জেইউ আলিম মাদ্রাসায়—৬৪ দশমিক ৭০ শতাংশ। এরপর হালুয়াঘাট ডি.এস আলিম মাদ্রাসায় ৬৪ দশমিক ২৮ শতাংশ।
অন্যদিকে সবচেয়ে কম পাসের হার জয়রামকুড়া দারুস সুন্নাহ দাখিল মাদ্রাসায়। প্রতিষ্ঠানটির ২১ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে মাত্র ৩ জন পাস করেছেন। পাসের হার ১৪ দশমিক ২৯ শতাংশ। এরপর রয়েছে গোরকপুর দাখিল মাদ্রাসা। সেখানে ৩৮ জনের মধ্যে ৭ জন পাস করে পাসের হার দাঁড়িয়েছে ১৮ দশমিক ৪২ শতাংশে।
ফলাফল বিপর্যয়ের কারণ জানতে প্রতিষ্ঠানটির দায়িত্বে থাকা সুপার মো. শফিকুল ইসলামকে মুঠোফোনে কল করা হলে তিনি বলেন, “পরীক্ষার হলে সিসিটিভি থাকায় অনেক শিক্ষার্থী আতঙ্কে ছিল। হয়তো এ কারণে ফলাফল খারাপ হতে পারে। এ ছাড়া আমরা দ্রুত স্টাফদের নিয়ে বসব এবং কীভাবে ফলাফল ভালো করা যায়, সে বিষয়ে আলোচনা করব।
এ বিষয়ে হালুয়াঘাট উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মিজানুর রহমান বলেন, “এ বছর মাদ্রাসাগুলোর পাসের হার অনেক কম। আমরা অতিশিগগিরই সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানপ্রধানদের নিয়ে বসব, কীভাবে শিক্ষার মান উন্নয়ন করা যায়, তা নিয়ে আলোচনা করব। সবচেয়ে খারাপ ফলাফল করেছে জয়রামকুড়া দারুস সুন্নাহ দাখিল মাদ্রাসা। এরপর রয়েছে গোরকপুর শহরুল উলুম দাখিল মাদ্রাসা। এসব প্রতিষ্ঠানকে নিয়ে আলাদাভাবে দ্রুত বসা হবে।”




💬 পাঠকের মতামত (০)