০৯:৪২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০২ জুন ২০২৬, ১৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম:
গ্রামের গৃহিণী থেকে সফল কৃষি উদ্যোক্তা, মাসে লাখ টাকা আয় নুরেশার
সুজন আলী, রাণীশংকৈল (ঠাকুরগাঁও) প্রতিনিধিঃ
- প্রকাশের সময় ০১:৩৪:৪৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২ জুন ২০২৬
- / ১০ Time View
স্বল্প আয়ের সংসারে নিত্যদিনের হিসাব-নিকাশে হিমশিম খেতে হতো। সংসারের অভাব-অনটন দূর করতে নতুন কিছু করার স্বপ্ন দেখতেন নুরেশা আক্তার। সেই স্বপ্নের পথ খুঁজতে গিয়ে ইউটিউবে দেখা একটি ভিডিওই বদলে দেয় তার জীবনের গল্প। কেঁচো দিয়ে জৈব সার উৎপাদনের ছোট্ট উদ্যোগ থেকে আজ তিনি মাসে প্রায় এক লাখ টাকা আয় করছেন। শুধু তাই নয়, নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন একজন সফল কৃষি উদ্যোক্তা হিসেবে এবং অন্য নারীদের জন্যও তৈরি করেছেন কর্মসংস্থানের সুযোগ।
ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলার রাতোর ইউনিয়নের আটকরা গ্রামের বাসিন্দা নুরেশা আক্তার বর্তমানে পরিচালনা করছেন ‘মেসার্স নুরেশা অ্যাগ্রো ফার্ম’। তার খামারে উৎপাদিত ভার্মি কম্পোস্ট এখন উপজেলার গণ্ডি পেরিয়ে আশপাশের বিভিন্ন এলাকার কৃষকদের কাছেও সমাদৃত।
নুরেশা আক্তার জানান, স্বামীর স্বল্প বেতনের চাকরির আয়ে সংসার চালাতে দীর্ঘদিন সংগ্রাম করতে হয়েছে। একদিন ইউটিউবে ভার্মি কম্পোস্ট উৎপাদনের একটি ভিডিও দেখে তার মনে আগ্রহ তৈরি হয়। এরপর অল্প কিছু কেঁচো সংগ্রহ করে বাড়িতেই পরীক্ষামূলকভাবে জৈব সার উৎপাদন শুরু করেন।
তার এই উদ্যোগ ধীরে ধীরে সাফল্যের মুখ দেখতে শুরু করলে উপজেলা কৃষি বিভাগ এগিয়ে আসে। কৃষি অফিসের প্রশিক্ষণ ও কারিগরি সহায়তার পাশাপাশি একটি প্রকল্পের আওতায় ভার্মি কম্পোস্ট সেপারেটিং মেশিন, সিলিং মেশিন, উৎপাদন ঘর এবং পিট নির্মাণে সহায়তা দেওয়া হয়। বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ইএসডিওও বিভিন্নভাবে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেয়।
বাজারে চাহিদা বাড়তে থাকলে ২০২৩ সালে স্বামী চাকরি ছেড়ে তার সঙ্গে যুক্ত হন। এরপর তারা ‘ফসল বন্ধু জৈব সার’ নামে প্যাকেটজাত করে বাজারজাতকরণ শুরু করেন। বর্তমানে তাদের খামারে রয়েছে ২টি উৎপাদন শেড, ১৫ টি পিট এবং ৫০টি রিং। এখান থেকে প্রতি মাসে প্রায় ১০ মেট্রিক টন ভার্মি কম্পোস্ট ও ১০ কেজি কেঁচো উৎপাদিত হচ্ছে।
বর্তমানে প্রতি কেজি ভার্মি কম্পোস্ট ১৫ টাকা এবং প্রতি কেজি কেঁচো ১ হাজার ৫০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। সব ধরনের ব্যয় বাদ দিয়ে মাসে প্রায় এক লাখ টাকা লাভ করছেন তারা। একই সঙ্গে তাদের খামারে আরও তিনজন নারীর কর্মসংস্থান হয়েছে।
কৃষি সংশ্লিষ্টরা বলছেন, রাসায়নিক সারের বিকল্প হিসেবে জৈব সারের ব্যবহার বাড়ছে। এতে উৎপাদন খরচ কমার পাশাপাশি মাটির উর্বরতা ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা হচ্ছে। ফলে নুরেশা আক্তারের মতো উদ্যোক্তারা শুধু নিজেরাই লাভবান হচ্ছেন না, টেকসই কৃষি ব্যবস্থার প্রসারেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন।
রাণীশংকৈল উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শহীদুল ইসলাম বলেন, “ভার্মি কম্পোস্ট মাটির স্বাস্থ্য রক্ষায় অত্যন্ত কার্যকর। নুরেশা আক্তারের উদ্যোগ প্রমাণ করেছে, ইচ্ছাশক্তি ও সঠিক দিকনির্দেশনা থাকলে গ্রামীণ নারীরাও সফল উদ্যোক্তা হয়ে উঠতে পারেন। তার এই সাফল্য এলাকার অন্যদেরও অনুপ্রাণিত করছে।”
সংসারের অভাব দূর করার স্বপ্ন নিয়ে শুরু হওয়া একটি ক্ষুদ্র উদ্যোগ আজ রূপ নিয়েছে সফল কৃষি উদ্যোক্তার গল্পে। নুরেশা আক্তারের এই যাত্রা শুধু ব্যক্তিগত সাফল্যের নয়, বরং গ্রামীণ নারী উদ্যোক্তা ও পরিবেশবান্ধব কৃষির সম্ভাবনার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।















