০৮:৩৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬, ১১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
ফজরের আজান ছিল মুক্তিযোদ্ধাদের হামলার সংকেত

আজ বরগুনা হানাদার মুক্ত দিবস, ফজরের আজান ছিল হামলার সংকেত

মোঃ রেজাউল ইসলাম, বরগুনা প্রতিনিধি
  • প্রকাশের সময় ০৯:৪২:৫৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৩ ডিসেম্বর ২০২৫
  • / ২৬১ Time View

{"remix_data":[],"remix_entry_point":"challenges","source_tags":[],"origin":"unknown","total_draw_time":0,"total_draw_actions":0,"layers_used":0,"brushes_used":0,"photos_added":0,"total_editor_actions":{},"tools_used":{"ai_enhance":1,"effects":1},"is_sticker":false,"edited_since_last_sticker_save":true,"containsFTESticker":false}

আজ ৩ ডিসেম্বর, বরগুনা হানাদার মুক্ত দিবস। ১৯৭১ সালের এ দিনে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ও দোসরদের হাত থেকে মুক্ত হয় বরগুনাবাসী। মুক্তিযোদ্ধারা ফজরের আজানকে সংকেত হিসেবে ব্যবহার করে একযোগে শত্রুপক্ষের ওপর অতর্কিত হামলা চালিয়ে বরগুনায় জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন।

স্বাধীনতা যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই বরগুনার মুক্তিকামী মানুষ রাইফেল, বন্দুক এবং বাঁশের লাঠি নিয়ে সামরিক প্রশিক্ষণ নিতে থাকেন। কিন্তু ২৬ এপ্রিল পাক-রাজাকার বাহিনী তৎকালীন বরগুনা মহকুমা দখল করে নির্মম হত্যাযজ্ঞ, গণধর্ষণ, লুটপাট ও ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে দেওয়ার মতো নৃশংসতা চালায়। ২৯ ও ৩০ মে বরগুনা জেলখানায় ৭৬ জন নিরীহ মানুষকে হত্যা করে গণকবর দেওয়া হয়।

প্রতিবেশী দেশ ভারতে প্রশিক্ষণ শেষে আবদুস সত্তার খানের নেতৃত্বে ২১ জন মুক্তিযোদ্ধা বরগুনা মুক্ত করার পরিকল্পনা গ্রহণ করেন। ২ ডিসেম্বর বদনীখালী এলাকায় অবস্থান নিয়ে তারা রাতে নৌকাযোগে বরগুনার খাকদোন নদীর তীরে অবস্থান নেন। বরগুনা শহরকে বিভিন্ন ভাগে ভাগ করে ফজরের আজানকে সংকেত হিসেবে নির্ধারণ করা হয়।

আজান শুরু হতেই ছয়টি স্থান থেকে সমন্বিত হামলায় রাজাকার-পুলিশরা আতঙ্কে জেলখানায় আশ্রয় নেয়। দ্বিতীয় দফা ফায়ারের পর তারা আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য হয়। মুক্তিযোদ্ধারা এসডিও আনোয়ার হোসেনের বাসভবন দখলে নিয়ে ট্রেজারির সামনে জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশন করে পতাকা উত্তোলন করেন।

হানাদার মুক্ত দিবস উপলক্ষে আজ সকালে সাগর পাড়ি খেলাঘর আসর র‍্যালী ও শহীদ বেদিতে শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন করেছে। বিকেলে চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা এবং সন্ধ্যায় মোমবাতি প্রজ্বলনের আয়োজন করেছে ভ্রমণ সেবা প্রতিষ্ঠান জলতরণী। সহযোগিতায় রয়েছে আলোকশিখা বরগুনা।

Please Share This Post in Your Social Media

ফজরের আজান ছিল মুক্তিযোদ্ধাদের হামলার সংকেত

আজ বরগুনা হানাদার মুক্ত দিবস, ফজরের আজান ছিল হামলার সংকেত

প্রকাশের সময় ০৯:৪২:৫৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৩ ডিসেম্বর ২০২৫

আজ ৩ ডিসেম্বর, বরগুনা হানাদার মুক্ত দিবস। ১৯৭১ সালের এ দিনে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ও দোসরদের হাত থেকে মুক্ত হয় বরগুনাবাসী। মুক্তিযোদ্ধারা ফজরের আজানকে সংকেত হিসেবে ব্যবহার করে একযোগে শত্রুপক্ষের ওপর অতর্কিত হামলা চালিয়ে বরগুনায় জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন।

স্বাধীনতা যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই বরগুনার মুক্তিকামী মানুষ রাইফেল, বন্দুক এবং বাঁশের লাঠি নিয়ে সামরিক প্রশিক্ষণ নিতে থাকেন। কিন্তু ২৬ এপ্রিল পাক-রাজাকার বাহিনী তৎকালীন বরগুনা মহকুমা দখল করে নির্মম হত্যাযজ্ঞ, গণধর্ষণ, লুটপাট ও ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে দেওয়ার মতো নৃশংসতা চালায়। ২৯ ও ৩০ মে বরগুনা জেলখানায় ৭৬ জন নিরীহ মানুষকে হত্যা করে গণকবর দেওয়া হয়।

প্রতিবেশী দেশ ভারতে প্রশিক্ষণ শেষে আবদুস সত্তার খানের নেতৃত্বে ২১ জন মুক্তিযোদ্ধা বরগুনা মুক্ত করার পরিকল্পনা গ্রহণ করেন। ২ ডিসেম্বর বদনীখালী এলাকায় অবস্থান নিয়ে তারা রাতে নৌকাযোগে বরগুনার খাকদোন নদীর তীরে অবস্থান নেন। বরগুনা শহরকে বিভিন্ন ভাগে ভাগ করে ফজরের আজানকে সংকেত হিসেবে নির্ধারণ করা হয়।

আজান শুরু হতেই ছয়টি স্থান থেকে সমন্বিত হামলায় রাজাকার-পুলিশরা আতঙ্কে জেলখানায় আশ্রয় নেয়। দ্বিতীয় দফা ফায়ারের পর তারা আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য হয়। মুক্তিযোদ্ধারা এসডিও আনোয়ার হোসেনের বাসভবন দখলে নিয়ে ট্রেজারির সামনে জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশন করে পতাকা উত্তোলন করেন।

হানাদার মুক্ত দিবস উপলক্ষে আজ সকালে সাগর পাড়ি খেলাঘর আসর র‍্যালী ও শহীদ বেদিতে শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন করেছে। বিকেলে চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা এবং সন্ধ্যায় মোমবাতি প্রজ্বলনের আয়োজন করেছে ভ্রমণ সেবা প্রতিষ্ঠান জলতরণী। সহযোগিতায় রয়েছে আলোকশিখা বরগুনা।