সরকারি খাল ও খাস পুকুর অবমুক্তের দাবিতে বাগেরহাটে সংবাদ সম্মেলন
রামপালে পানিসংকট ও খাল দখলে কৃষি বিপর্যস্ত
- প্রকাশের সময় ০১:০৫:৫৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ ডিসেম্বর ২০২৫
- / ২১৪ Time View
বাগেরহাট ও রামপাল উপজেলায় তীব্র পানিসংকট, লবণাক্ততা বৃদ্ধি এবং সরকারি খাল ও খাস পুকুর দখলের কারণে কৃষি, পরিবেশ ও জনজীবন মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে। এই সংকট থেকে উত্তরণে অবিলম্বে সরকারি খাল ও খাস পুকুর দখলমুক্ত করার দাবিতে মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) সকালে বাগেরহাট প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেছে এক্টিভিস্টা বাগেরহাট ও রামপালের ইয়ুথ সদস্যরা।
সংবাদ সম্মেলনে এক্টিভিস্টারা বলেন, বাগেরহাট একটি প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী জনপদ। প্রায় ১৪শ’ শতকে হজরত খানজাহান আলী (রঃ) কৃষি ও জনজীবনের উন্নয়নে অসংখ্য খাল, দীঘি ও জলাধার খনন করেছিলেন। এসব জলব্যবস্থা একসময় কৃষি উৎপাদন ও সুপেয় পানির প্রধান উৎস ছিল। বর্তমানে দখল, দূষণ ও অপরিকল্পিত ব্যবস্থাপনার কারণে অধিকাংশ খাল ও পুকুর অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে।
উপকূলীয় জেলা হওয়ায় বাগেরহাট ও রামপালে দিন দিন লবণাক্ততার মাত্রা বেড়েই চলেছে। সরকারি খাল ও পুকুর দখলের ফলে নদী ও ভূগর্ভস্থ পানিতে লবণাক্ততা বৃদ্ধি পাচ্ছে, সৃষ্টি হচ্ছে তীব্র পানিসংকট। এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে কৃষিতে। শুধু রামপাল উপজেলাতেই প্রায় ২৭ হাজার ৬৪৪ হেক্টর জমি বর্তমানে অনাবাদী অবস্থায় রয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থাপিত পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বাগেরহাট জেলায় মোট আবাদযোগ্য জমির পরিমাণ ১ লাখ ২২ হাজার ২৩১ হেক্টর। এর মধ্যে আবাদ হচ্ছে ১ লাখ ৪ হাজার ৪৭৩ হেক্টর জমিতে। পতিত জমির পরিমাণ ৮ হাজার ৭০৭ হেক্টর, আর সারা বছর পানির নিচে থাকে প্রায় ১৫ হাজার ৫৯২ হেক্টর জমি। বাগেরহাট সদর উপজেলার মাদারতলা, খুনতাকাটা, শশিখালী ও গোদাড়ার খালসহ বহু গুরুত্বপূর্ণ খাল দখল হয়ে যাওয়ায় জলাবদ্ধতা ও পরিবেশের ভারসাম্য মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। একই সঙ্গে সরকারি পুকুর লিজ দিয়ে মাছ চাষ করায় সাধারণ মানুষ সুপেয় পানি থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
সংবাদ সম্মেলন থেকে অবিলম্বে অবৈধ দখল উচ্ছেদ, খাল ও নদী পুনঃখনন, টেকসই সেচব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং লবণাক্ততা-সহনশীল ফসল চাষের উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানানো হয়।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক গোলাম মোঃ বাতেন বলেন,
“সরকারি খাল ও খাস পুকুর রাষ্ট্রের সম্পদ। এসব সম্পদ রক্ষা করা আমাদের প্রধান দায়িত্ব। কিছু অসাধু ব্যক্তি খাল ও পুকুর দখল করে মাছ চাষ করছে—বিষয়টি জানা গেছে। খুব দ্রুত এসব খাল ও খাস পুকুর দখলমুক্ত করা হবে এবং নতুন প্রকল্পের মাধ্যমে সংস্কার করে সুপেয় পানির ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হবে।”




















