কারিগরি শিক্ষার মাধ্যমে দক্ষ মানবসম্পদ গঠনের আহ্বান বিভাগীয় কমিশনারের
ময়মনসিংহে তারুণ্যের উৎসব–২০২৫ উপলক্ষ্যে দিনব্যাপী চাকরি মেলা অনুষ্ঠিত
- প্রকাশের সময় ০১:৫০:০৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৪ ডিসেম্বর ২০২৫
- / ২২৪ Time View
তারুণ্যের কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও দক্ষতা উন্নয়নের লক্ষ্যে ময়মনসিংহ পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের উদ্যোগে “তারুণ্যের উৎসব–২০২৫” উপলক্ষ্যে দিনব্যাপী চাকরি মেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) ময়মনসিংহ পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের হোস্টেল মাঠে আয়োজিত এ চাকরি মেলা দিনব্যাপী চলে। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে চাকরি মেলার উদ্বোধন করেন ময়মনসিংহ বিভাগীয় কমিশনার ফারাহ শাম্মী (এনডিসি)।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক (উপসচিব) সেঁজুতি ধর এবং এসেট প্রকল্পের উপপ্রকল্প পরিচালক প্রকৌশলী রবীন্দ্রনাথ মাহাত।
অনুষ্ঠানে ময়মনসিংহ পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের অধ্যক্ষ মো. কেপায়েত উল্লাহ-এর সভাপতিত্বে স্বাগত বক্তব্য রাখেন উপাধ্যক্ষ মো. শওকত হোসেন।
কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের আওতাধীন এসেট প্রকল্পের অর্থায়নে, ময়মনসিংহ পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের আয়োজনে এবং বিশ্বব্যাংকের সহযোগিতায় এ চাকরি মেলা অনুষ্ঠিত হয়।
প্রধান অতিথি তার বক্তব্যে বলেন,
“কারিগরি শিক্ষাই তরুণদের আত্মনির্ভরশীল করে তোলার অন্যতম প্রধান হাতিয়ার। বর্তমান বিশ্ব প্রতিযোগিতামূলক হওয়ায় চাকরির বাজারের চাহিদা অনুযায়ী নিজেকে দক্ষ, যোগ্য ও যুগোপযোগী করে গড়ে তোলার বিকল্প নেই।”
তিনি আরও বলেন, দক্ষতা উন্নয়ন আজ সময়ের সবচেয়ে বড় দাবি। বাংলাদেশকে প্রযুক্তিতে আরও এগিয়ে নিতে হলে তরুণ প্রজন্মকে আধুনিক প্রযুক্তি ও কারিগরি জ্ঞানে দক্ষ হতে হবে। এ লক্ষ্যে চাকরিপ্রত্যাশী তরুণদের নিজেদের দক্ষতা বৃদ্ধিতে মনোযোগী হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
বিভাগীয় কমিশনার বলেন,
“প্রযুক্তিতে স্বয়ংসম্পূর্ণ হতে পারলে বিদেশি কর্মীদের ওপর নির্ভরশীলতা কমবে। দেশেই কাজ করার মানসিকতা গড়ে তুলে বাংলাদেশকে সমৃদ্ধ ও আত্মনির্ভরশীল রাষ্ট্রে পরিণত করা সম্ভব।”
চাকরিদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে সমন্বয় ও সহযোগিতার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের বাস্তবমুখী দক্ষতা বৃদ্ধিতে উদ্যোগ নিতে হবে। শিল্প-কারখানা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে কার্যকর সমন্বয় গড়ে উঠলে দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি সম্ভব হবে।
চাকরি মেলায় বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠান, কারখানা ও প্রশিক্ষণ সংস্থার প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন। শিক্ষার্থীদের জন্য সরাসরি সাক্ষাৎকার, ক্যারিয়ার গাইডলাইন, চাকরির তথ্য এবং দক্ষতা উন্নয়ন বিষয়ক পরামর্শ প্রদান করা হয়।
মেলায় শিল্প-কারখানাসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মোট ৩৫টি স্টল অংশ নেয়। আয়োজক সূত্র জানায়, মেলা চলাকালীন সময়ে প্রায় ৫০ জন চাকরিপ্রত্যাশীর জীবনবৃত্তান্ত যাচাই করে ভাইভা শেষে নিয়োগপত্র প্রদান করা হয়।
দিনব্যাপী এ আয়োজনে পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, চাকরিপ্রত্যাশী তরুণ-তরুণী এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। আয়োজকরা জানান, এ ধরনের চাকরি মেলা তরুণদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি ও দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

















