মাটি পাচারকারীদের অবৈধ খননে প্রাণ গেল ৭ বছরের রুমানের, উত্তাল এলাকা
রাঙ্গুনিয়ায় ইটভাটার গর্তে পড়ে শিশুর মৃত্যু, ধামাচাপা দেওয়ার অভিযোগ
- প্রকাশের সময় ১১:৪৮:৪৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ ডিসেম্বর ২০২৫
- / ২৮৭ Time View
চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় অবৈধ মাটি কাটার ভয়াবহ পরিণতিতে প্রাণ গেল সাত বছরের এক শিশুর। মাটি পাচারকারী মাফিয়াদের লোভের খেসারত দিতে হলো ছোট্ট রুমানকে। ঘটনার পরও থেমে নেই ভেকু মেশিন দিয়ে অবৈধ মাটি কাটার ধ্বংসযজ্ঞ, আর মৃত্যুভয়ে কেউ মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছে না বলে অভিযোগ এলাকাবাসীর।
সোমবার (২২ ডিসেম্বর) দিনগত রাত আনুমানিক ১১টার দিকে রাঙ্গুনিয়া উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের টেকপাড়া পুলিশ ক্যাম্প সংলগ্ন এলাকায় একটি ইটভাটার মাটি খননের গর্ত থেকে সাত বছরের শিশু রুমানের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহত রুমান ওই এলাকার বাসিন্দা আলাউদ্দিনের ছেলে।
জানা যায়, সোমবার সকালে রুমান নিখোঁজ হয়। দুপুর থেকে পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়রা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান পাননি। পরে প্রায় ১৬ ঘণ্টা পর রাত ১১টার দিকে টেকপাড়া পুলিশ ক্যাম্পের পাশের একটি গভীর খনন গর্তে তার মরদেহ পাওয়া যায়।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।
এ ঘটনায় এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। শিশুর মৃত্যুর জন্য মাটি পাচারকারী মাফিয়াদের দায়ী করে তাদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা না নেওয়া হলে বৃহত্তর আন্দোলনের হুঁশিয়ারিও দেন তারা।
ক্ষুব্ধ এলাকাবাসীর অভিযোগ, ইসলামপুর ইউনিয়নের জনবসতি ও বাড়িঘরের আশপাশে ভেকু মেশিন দিয়ে গভীর গর্ত করে অবাধে মাটি কাটা হচ্ছে। এসব মাটি পাচার করে পকেট ভরছে প্রভাবশালী মাফিয়া ও রাজনৈতিক দলের কিছু নেতার। এই বেআইনি কর্মকাণ্ডের কারণে একের পর এক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারাচ্ছে নিরীহ মানুষের সন্তানরা।
তারা আরও অভিযোগ করেন, কোনো দুর্ঘটনা ঘটলেই প্রভাবশালী মহল ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করে। ফলে প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ না থাকায় মাটি পাচারকারীরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে। তবে এবার এলাকাবাসী ঐক্যবদ্ধ হয়ে এসব মাটি খেকোদের বিচারের দাবি জানাচ্ছেন।
এ বিষয়ে রাঙ্গুনিয়া মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আরমান হোসেন শিশুর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন,
“গতকাল রাত আনুমানিক ১২টার দিকে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। শিশুটির পরিবারের পক্ষ থেকে একটি অপমৃত্যু মামলা করা হয়েছে।”





















