০৪:৫৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ জানুয়ারী ২০২৬, ১৬ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
জনবসতি ও ব্যক্তি মালিকানাধীন জমিতে পৌরসভার ডাস্টবিন নির্মাণের প্রতিবাদে বিক্ষোভ

রাঙ্গুনিয়ায় ডাস্টবিন স্থাপন নিয়ে ক্ষোভ

এম. মতিন, চট্টগ্রাম
  • প্রকাশের সময় ১২:৪৮:১৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ২১ ডিসেম্বর ২০২৫
  • / ৩০৮ Time View

চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া পৌরসভার মুহাম্মদপুর এলাকায় ব্যক্তি মালিকানাধীন জমি ও ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় পৌরসভার ডাস্টবিন নির্মাণের প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল করেছেন স্থানীয় এলাকাবাসী। দ্রুত ডাস্টবিন নির্মাণ প্রকল্পটি অন্যত্র স্থানান্তরের দাবি জানান তারা।

রবিবার (২১ ডিসেম্বর) দুপুরে রাঙ্গুনিয়া পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের মুহাম্মদপুর উত্তর পাড়ায় এ বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। মিছিল থেকে এলাকাবাসী ডাস্টবিন নির্মাণ বন্ধ এবং বিকল্প স্থানে স্থানান্তরের জোর দাবি জানান।

স্থানীয়রা জানান, গত ১০ নভেম্বর ডাস্টবিন নির্মাণ না করার দাবিতে পৌর প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগও প্রদান করা হয়েছে।

বিক্ষোভকারীরা অভিযোগ করে বলেন, তারা দীর্ঘ ৪০ বছর ধরে এ এলাকায় বসবাস করে আসছেন। কিন্তু গত ৫ আগস্টের জুলাই বিপ্লবের পর কাউন্সিলর জাহাঙ্গীর ও পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী জমির উদ্দিনের যোগসাজশে ব্যক্তি মালিকানাধীন খতিয়ানভুক্ত জমিতে ডাস্টবিন নির্মাণের জন্য রাস্তা খননের কাজ শুরু করা হয়। ইতোমধ্যে চলাচলের রাস্তার পাশে পৌরসভার ময়লা-আবর্জনা ফেলা হচ্ছে, ফলে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন এলাকাবাসী।

তারা আরও বলেন, এ এলাকায় প্রায় ২০০ থেকে ২৫০টি বসতবাড়ি রয়েছে এবং একটি মসজিদসহ হাজারো মানুষের বসবাস। রাস্তাধারে ময়লার ভাগাড় তৈরি হওয়ায় শিশু, বৃদ্ধ ও সাধারণ মানুষ মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়েছেন। ময়লার দুর্গন্ধ প্রায় এক থেকে দেড় কিলোমিটার এলাকা জুড়ে ছড়িয়ে পড়ছে। মশা-মাছির উৎপাত ও দুর্গন্ধে সেখানে বসবাস করা প্রায় অসম্ভব হয়ে উঠেছে।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, খোলা জায়গায় অপরিকল্পিতভাবে ময়লা-আবর্জনা ফেলা ও রিসাইক্লিং ব্যবস্থা না থাকায় পরিবেশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। হুমকির মুখে পড়েছে জনস্বাস্থ্য ও জীববৈচিত্র্য।

তারা জানান, ময়লার ভাগাড়ের পশ্চিম ও উত্তরে রয়েছে আবুল বশর হোসাইনী জামে মসজিদ এবং দক্ষিণ ও পূর্ব পাশে রয়েছে ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা। দুর্গন্ধ বাতাসের মাধ্যমে ঘরবাড়িতে ছড়িয়ে পড়ায় মানুষ অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। এতে পৌরসভার স্বাভাবিক পরিবেশ ও সৌন্দর্য নষ্ট হচ্ছে এবং জনস্বাস্থ্যের মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে।

এ বিষয়ে পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী জমির উদ্দিনের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন,

“এই ব্যাপারে আমি কোনো কথা বলব না, পৌর প্রশাসকের সঙ্গে কথা বলুন।”

অন্যদিকে পৌর প্রশাসক দেব ব্রত দাশ বলেন,

“আমার পৌরসভায় আলাদা করে ডাস্টবিন করার মতো জায়গা নেই। নদীতে ময়লা ফেলার বিষয়ে ইতোমধ্যে উকিল নোটিশ পেয়েছি। পৌরসভায় ময়লা ফেলার জন্য জায়গার সংকট রয়েছে। ওই স্থানে শুধু পৌরসভার ময়লা ফেলার জন্য একটি আলাদা প্রকল্প নেওয়া হয়েছে।”

তিনি আরও বলেন,

“যদি ওই জায়গায় ডাস্টবিন নির্মাণ সম্ভব না হয়, তাহলে বিকল্প উপযুক্ত স্থান নির্ধারণ করে স্থানান্তরের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সবাইকে নিয়ে আলোচনার মাধ্যমে এমন সমাধান করা হবে, যাতে জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশের উন্নতি নিশ্চিত হয়।”

Please Share This Post in Your Social Media

জনবসতি ও ব্যক্তি মালিকানাধীন জমিতে পৌরসভার ডাস্টবিন নির্মাণের প্রতিবাদে বিক্ষোভ

রাঙ্গুনিয়ায় ডাস্টবিন স্থাপন নিয়ে ক্ষোভ

প্রকাশের সময় ১২:৪৮:১৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ২১ ডিসেম্বর ২০২৫

চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া পৌরসভার মুহাম্মদপুর এলাকায় ব্যক্তি মালিকানাধীন জমি ও ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় পৌরসভার ডাস্টবিন নির্মাণের প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল করেছেন স্থানীয় এলাকাবাসী। দ্রুত ডাস্টবিন নির্মাণ প্রকল্পটি অন্যত্র স্থানান্তরের দাবি জানান তারা।

রবিবার (২১ ডিসেম্বর) দুপুরে রাঙ্গুনিয়া পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের মুহাম্মদপুর উত্তর পাড়ায় এ বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। মিছিল থেকে এলাকাবাসী ডাস্টবিন নির্মাণ বন্ধ এবং বিকল্প স্থানে স্থানান্তরের জোর দাবি জানান।

স্থানীয়রা জানান, গত ১০ নভেম্বর ডাস্টবিন নির্মাণ না করার দাবিতে পৌর প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগও প্রদান করা হয়েছে।

বিক্ষোভকারীরা অভিযোগ করে বলেন, তারা দীর্ঘ ৪০ বছর ধরে এ এলাকায় বসবাস করে আসছেন। কিন্তু গত ৫ আগস্টের জুলাই বিপ্লবের পর কাউন্সিলর জাহাঙ্গীর ও পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী জমির উদ্দিনের যোগসাজশে ব্যক্তি মালিকানাধীন খতিয়ানভুক্ত জমিতে ডাস্টবিন নির্মাণের জন্য রাস্তা খননের কাজ শুরু করা হয়। ইতোমধ্যে চলাচলের রাস্তার পাশে পৌরসভার ময়লা-আবর্জনা ফেলা হচ্ছে, ফলে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন এলাকাবাসী।

তারা আরও বলেন, এ এলাকায় প্রায় ২০০ থেকে ২৫০টি বসতবাড়ি রয়েছে এবং একটি মসজিদসহ হাজারো মানুষের বসবাস। রাস্তাধারে ময়লার ভাগাড় তৈরি হওয়ায় শিশু, বৃদ্ধ ও সাধারণ মানুষ মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়েছেন। ময়লার দুর্গন্ধ প্রায় এক থেকে দেড় কিলোমিটার এলাকা জুড়ে ছড়িয়ে পড়ছে। মশা-মাছির উৎপাত ও দুর্গন্ধে সেখানে বসবাস করা প্রায় অসম্ভব হয়ে উঠেছে।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, খোলা জায়গায় অপরিকল্পিতভাবে ময়লা-আবর্জনা ফেলা ও রিসাইক্লিং ব্যবস্থা না থাকায় পরিবেশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। হুমকির মুখে পড়েছে জনস্বাস্থ্য ও জীববৈচিত্র্য।

তারা জানান, ময়লার ভাগাড়ের পশ্চিম ও উত্তরে রয়েছে আবুল বশর হোসাইনী জামে মসজিদ এবং দক্ষিণ ও পূর্ব পাশে রয়েছে ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা। দুর্গন্ধ বাতাসের মাধ্যমে ঘরবাড়িতে ছড়িয়ে পড়ায় মানুষ অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। এতে পৌরসভার স্বাভাবিক পরিবেশ ও সৌন্দর্য নষ্ট হচ্ছে এবং জনস্বাস্থ্যের মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে।

এ বিষয়ে পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী জমির উদ্দিনের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন,

“এই ব্যাপারে আমি কোনো কথা বলব না, পৌর প্রশাসকের সঙ্গে কথা বলুন।”

অন্যদিকে পৌর প্রশাসক দেব ব্রত দাশ বলেন,

“আমার পৌরসভায় আলাদা করে ডাস্টবিন করার মতো জায়গা নেই। নদীতে ময়লা ফেলার বিষয়ে ইতোমধ্যে উকিল নোটিশ পেয়েছি। পৌরসভায় ময়লা ফেলার জন্য জায়গার সংকট রয়েছে। ওই স্থানে শুধু পৌরসভার ময়লা ফেলার জন্য একটি আলাদা প্রকল্প নেওয়া হয়েছে।”

তিনি আরও বলেন,

“যদি ওই জায়গায় ডাস্টবিন নির্মাণ সম্ভব না হয়, তাহলে বিকল্প উপযুক্ত স্থান নির্ধারণ করে স্থানান্তরের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সবাইকে নিয়ে আলোচনার মাধ্যমে এমন সমাধান করা হবে, যাতে জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশের উন্নতি নিশ্চিত হয়।”