স্বচ্ছতা–জবাবদিহিতার প্রত্যয়ে মানববন্ধন ও আলোচনা সভা
ময়মনসিংহে আন্তর্জাতিক দুর্নীতিবিরোধী দিবস ২০২৫ উদযাপন
- প্রকাশের সময় ০৪:৩৫:৪৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৯ ডিসেম্বর ২০২৫
- / ২১৫ Time View
“দুর্নীতির বিরুদ্ধে তারুণ্যের একতা; গড়বে আগামীর শুদ্ধতা”—এই মহৎ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে আন্তর্জাতিক দুর্নীতিবিরোধী দিবস ২০২৫ উপলক্ষে ০৯ ডিসেম্বর মঙ্গলবার ময়মনসিংহ নগরীর ঐতিহ্যবাহী টাউন হলে মানববন্ধন এবং এডভোকেট তারেক স্মৃতি অডিটোরিয়ামে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানটির সভাপতিত্ব করেন দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ময়মনসিংহ বিভাগীয় কার্যালয়ের পরিচালক মোঃ মনিরুজ্জামান। প্রধান অতিথি ছিলেন ময়মনসিংহ বিভাগীয় কমিশনার ফারাহ শাম্মী, এনডিসি। মুখ্য আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন ময়মনসিংহ রেঞ্জ ডিআইজি মোহাম্মদ আতাউল কিবরিয়া। এছাড়া বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক মোঃ সাইফুর রহমান, পুলিশ সুপার মোঃ মিজানুর রহমান, জেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সহ-সভাপতি আজিজ আহমেদ সাদেক রেজা, এবং ময়মনসিংহ সচেতন নাগরিক কমিটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সুবর্ণা পলি দ্রং।
দুর্নীতি: অর্থনীতি ও সমাজের জন্য মারাত্মক প্রতিবন্ধকতা
প্রধান অতিথি তাঁর বক্তব্যে বলেন, দুর্নীতি বাংলাদেশের সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক কাঠামোকে গভীরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। দুর্নীতি সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগকে বাধাগ্রস্ত করছে, যা দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে শ্লথ করে দিচ্ছে। তিনি উল্লেখ করেন, সরকারি সেবার ডিজিটালাইজেশন দুর্নীতি কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
ইজিপি টেন্ডার ব্যবস্থা, নামজারি ও বিভিন্ন সেবা অনলাইনে আসায় অনিয়মের সুযোগ কমেছে এবং জনগণের স্বচ্ছ ও সহজলভ্য সেবা নিশ্চিত হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, দুর্নীতি দমন আইন, তথ্য অধিকার আইনসহ বিভিন্ন আইনি কাঠামো সরকারকে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে শক্তিশালী করেছে।
স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে নাগরিক ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ
বিভাগীয় কমিশনার বলেন, প্রশাসনের প্রতিটি ক্ষেত্রে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে। কোনো সেবা প্রত্যাশিত না হলে একজন নাগরিক তথ্য অধিকার আইনের মাধ্যমে কারণ জানতে পারবেন এবং প্রয়োজনে প্রতিকার চাইতে পারবেন।
ডিআইজির বার্তা: “প্রথমে নিজেকে সৎ হতে হবে”
মুখ্য আলোচক ময়মনসিংহ রেঞ্জ ডিআইজি ব্যক্তিগত লাভের জন্য সরকারি ক্ষমতার অপব্যবহারের কঠোর সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, “আমি যদি নৈতিকতা লঙ্ঘন করি, তবে আমার অধীনস্থদের দুর্নীতি না করতে বলার অধিকার থাকে না।”
তিনি তরুণদের দুর্নীতিবিরোধী আন্দোলনের প্রধান শক্তি হিসেবে আখ্যায়িত করে বলেন, দেশের চার কোটিরও বেশি তরুণ জনগোষ্ঠী শিক্ষিত, সচেতন এবং প্রযুক্তিদক্ষ—যারা ইতিবাচক পরিবর্তনের মূল চালিকাশক্তি হতে পারে।
উপস্থিতি ও সমাপনী বক্তব্য
অনুষ্ঠানে সরকারি-বেসরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, শিক্ষক, সাংবাদিক, সামাজিক সংগঠন প্রতিনিধিসহ শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন। শুভেচ্ছা বক্তব্য প্রদান করেন দুর্নীতি দমন কমিশন সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের উপপরিচালক রণজিৎ কুমার কর্মকার।

















