০৯:৪৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৪ জানুয়ারী ২০২৬, ১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
ইতিহাস, জনসংখ্যা, রেলস্টেশন, ইউনিয়ন ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে সমৃদ্ধ শ্রীপুর উপজেলার বিস্তৃত পরিচিতি

শ্রীপুর গাজীপুরের উত্তরের ঐতিহ্যবাহী ও বৃহত্তম থানা

মোঃ আশিকুর রহমান, শ্রীপুর, গাজীপুর
  • প্রকাশের সময় ১১:১০:২৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৬ ডিসেম্বর ২০২৫
  • / ২৪২ Time View

গাজীপুর জেলার উত্তরের বৃহত্তম ও গুরুত্বপূর্ণ থানা শ্রীপুর, যা ঐতিহাসিক ঐতিহ্য, প্রাকৃতিক সৌন্দর্য এবং সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যে সমৃদ্ধ একটি জনপদ। উপজেলার মোট আয়তন ৪৬২.৯৪ বর্গ কিলোমিটার এবং জনসংখ্যা প্রায় ৪ লাখ ৯২ হাজার ৭৯২ (২০১১ সালের আদমশুমারি অনুযায়ী)। প্রতি বর্গ কিলোমিটারে জনসংখ্যার ঘনত্ব ১০৬০ জন।

১৯৩৩ সাল পর্যন্ত শ্রীপুর ছিল কাপাসিয়া থানার অংশ। পরে প্রয়োজনীয়তা ও জনসংখ্যা বৃদ্ধির প্রেক্ষিতে ১৯৮৪ সালে শ্রীপুরকে থানায় উন্নীত করা হয়। একসময় ঢাকা থেকে রেলযোগে ডাকপত্র আসত সরাসরি শ্রীপুরে, যা শ্রীপুরের পুরনো প্রশাসনিক গুরুত্বকে নির্দেশ করে।

উপজেলাটিতে রয়েছে একটি পৌরসভা ও আটটি ইউনিয়ন—কাওরাইদ, বরমী, গোসিংগা, ভাওয়াল রাজাবাড়ী, তেলিহাটি, প্রহলাদপুর, গাজীপুর ও মাওনা। প্রতিটি ইউনিয়নই ইতিহাস, ভৌগোলিক বৈচিত্র্য ও বৈশিষ্ট্যে অনন্য।

রেলপথ ও যোগাযোগ ব্যবস্থা

শ্রীপুর উপজেলায় রয়েছে পাঁচটি রেলস্টেশন
কাওরাইদ, সাতখামাইর, শ্রীপুর, ইজ্জতপুর ও রাজেন্দ্রপুর।
এগুলোর মধ্যে কাওরাইদ রেলস্টেশন গাজীপুর জেলার সর্বোত্তরের স্টেশন।

ঐতিহ্য ও ইতিহাস

  • ভাওয়াল রাজাবাড়ী ইউনিয়ন—মধ্যযুগের বৌদ্ধ চণ্ডাল রাজার বাড়ির ধ্বংসাবশেষ এখনো লোকমুখে প্রচলিত ইতিহাস বহন করে।

  • গাজীপুর ইউনিয়নের শৈলাট—মধ্যযুগের চণ্ডাল রাজাদের রাজবাগান ছিল এখানে।

  • পাকিস্তান আমলেও শৈলাট ও কাচিনা এলাকায় ছিল সরকারি হাতিশালা।

প্রকৃতি, নদী ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্য

  • গোসিংগা ইউনিয়নে রয়েছে প্রাচীন সব দিঘী, সৌন্দর্যমণ্ডিত ঘাট এবং শীতলক্ষ্যা নদীর মনোরম প্রবাহ।

  • বরমী ইউনিয়নের বরমী বাজার চার শত বছরের পুরনো—দেশের অন্যতম বৃহত্তম গ্রামীণ বাজার হিসেবেও পরিচিত।

পর্যটন ও বিনোদন কেন্দ্র

শ্রীপুরকে দেশের অন্যতম পর্যটনসমৃদ্ধ অঞ্চল বলা যায়। এখানে রয়েছে—

  • গাজীপুর সাফারি পার্ক (সাবেক বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্ক)

  • নূহাশ পল্লী

  • নক্ষত্রবাড়ি রিসোর্ট

  • শিশুপল্লী প্লাস

  • গ্রীন ভিউ রিসোর্ট

  • কালমেঘ

  • শ্রীপুর জমিদার বাড়ি

  • বিস্তীর্ণ শালবন, চা বাগান, কৃত্রিম লেক ও পিকনিক স্পট।

শ্রীপুর পৌরসভার কেন্দ্রবিন্দু

পৌরসভার কেন্দ্রস্থলে রয়েছে ঐতিহাসিক ওয়াইদ্যার দিঘী, যা স্থানীয়দের মতে প্রায় ৮০০–১০০০ বছরের পুরনো। এখানে প্রতি বছর বৃহৎ আকারে ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হয়।

শালবন, নদী, পাহাড়ি ঢাল, ঐতিহ্য ও আধুনিকতার মিশেলে শ্রীপুর গাজীপুর জেলার এক অনন্য ও বৈচিত্র্যময় জনপদ হিসেবে পরিচিত।

Please Share This Post in Your Social Media

ইতিহাস, জনসংখ্যা, রেলস্টেশন, ইউনিয়ন ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে সমৃদ্ধ শ্রীপুর উপজেলার বিস্তৃত পরিচিতি

শ্রীপুর গাজীপুরের উত্তরের ঐতিহ্যবাহী ও বৃহত্তম থানা

প্রকাশের সময় ১১:১০:২৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৬ ডিসেম্বর ২০২৫

গাজীপুর জেলার উত্তরের বৃহত্তম ও গুরুত্বপূর্ণ থানা শ্রীপুর, যা ঐতিহাসিক ঐতিহ্য, প্রাকৃতিক সৌন্দর্য এবং সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যে সমৃদ্ধ একটি জনপদ। উপজেলার মোট আয়তন ৪৬২.৯৪ বর্গ কিলোমিটার এবং জনসংখ্যা প্রায় ৪ লাখ ৯২ হাজার ৭৯২ (২০১১ সালের আদমশুমারি অনুযায়ী)। প্রতি বর্গ কিলোমিটারে জনসংখ্যার ঘনত্ব ১০৬০ জন।

১৯৩৩ সাল পর্যন্ত শ্রীপুর ছিল কাপাসিয়া থানার অংশ। পরে প্রয়োজনীয়তা ও জনসংখ্যা বৃদ্ধির প্রেক্ষিতে ১৯৮৪ সালে শ্রীপুরকে থানায় উন্নীত করা হয়। একসময় ঢাকা থেকে রেলযোগে ডাকপত্র আসত সরাসরি শ্রীপুরে, যা শ্রীপুরের পুরনো প্রশাসনিক গুরুত্বকে নির্দেশ করে।

উপজেলাটিতে রয়েছে একটি পৌরসভা ও আটটি ইউনিয়ন—কাওরাইদ, বরমী, গোসিংগা, ভাওয়াল রাজাবাড়ী, তেলিহাটি, প্রহলাদপুর, গাজীপুর ও মাওনা। প্রতিটি ইউনিয়নই ইতিহাস, ভৌগোলিক বৈচিত্র্য ও বৈশিষ্ট্যে অনন্য।

রেলপথ ও যোগাযোগ ব্যবস্থা

শ্রীপুর উপজেলায় রয়েছে পাঁচটি রেলস্টেশন
কাওরাইদ, সাতখামাইর, শ্রীপুর, ইজ্জতপুর ও রাজেন্দ্রপুর।
এগুলোর মধ্যে কাওরাইদ রেলস্টেশন গাজীপুর জেলার সর্বোত্তরের স্টেশন।

ঐতিহ্য ও ইতিহাস

  • ভাওয়াল রাজাবাড়ী ইউনিয়ন—মধ্যযুগের বৌদ্ধ চণ্ডাল রাজার বাড়ির ধ্বংসাবশেষ এখনো লোকমুখে প্রচলিত ইতিহাস বহন করে।

  • গাজীপুর ইউনিয়নের শৈলাট—মধ্যযুগের চণ্ডাল রাজাদের রাজবাগান ছিল এখানে।

  • পাকিস্তান আমলেও শৈলাট ও কাচিনা এলাকায় ছিল সরকারি হাতিশালা।

প্রকৃতি, নদী ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্য

  • গোসিংগা ইউনিয়নে রয়েছে প্রাচীন সব দিঘী, সৌন্দর্যমণ্ডিত ঘাট এবং শীতলক্ষ্যা নদীর মনোরম প্রবাহ।

  • বরমী ইউনিয়নের বরমী বাজার চার শত বছরের পুরনো—দেশের অন্যতম বৃহত্তম গ্রামীণ বাজার হিসেবেও পরিচিত।

পর্যটন ও বিনোদন কেন্দ্র

শ্রীপুরকে দেশের অন্যতম পর্যটনসমৃদ্ধ অঞ্চল বলা যায়। এখানে রয়েছে—

  • গাজীপুর সাফারি পার্ক (সাবেক বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্ক)

  • নূহাশ পল্লী

  • নক্ষত্রবাড়ি রিসোর্ট

  • শিশুপল্লী প্লাস

  • গ্রীন ভিউ রিসোর্ট

  • কালমেঘ

  • শ্রীপুর জমিদার বাড়ি

  • বিস্তীর্ণ শালবন, চা বাগান, কৃত্রিম লেক ও পিকনিক স্পট।

শ্রীপুর পৌরসভার কেন্দ্রবিন্দু

পৌরসভার কেন্দ্রস্থলে রয়েছে ঐতিহাসিক ওয়াইদ্যার দিঘী, যা স্থানীয়দের মতে প্রায় ৮০০–১০০০ বছরের পুরনো। এখানে প্রতি বছর বৃহৎ আকারে ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হয়।

শালবন, নদী, পাহাড়ি ঢাল, ঐতিহ্য ও আধুনিকতার মিশেলে শ্রীপুর গাজীপুর জেলার এক অনন্য ও বৈচিত্র্যময় জনপদ হিসেবে পরিচিত।