চার নারীসহ পাঁচজন হাসপাতালে, দুইজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক
আমতলীতে ধান কাটাকে কেন্দ্র করে কুপিয়ে জখম ৫
- প্রকাশের সময় ১১:০৪:৩১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৬ ডিসেম্বর ২০২৫
- / ১৬১ Time View
ধান কাটতে বাঁধা দেওয়ায় বরগুনার আমতলীতে চার নারীসহ পাঁচজনকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর জখম করেছে প্রতিপক্ষ। শুক্রবার বিকেলে উপজেলার হলদিয়া ইউনিয়নের দক্ষিণ তক্তাবুনিয়া গ্রামে এ হামলার ঘটনা ঘটে।
ভুক্তভোগী শহীদুল ইসলাম জানান, হলদিয়া ইউনিয়ন যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আরিফ গাজীর নেতৃত্বে একদল সন্ত্রাসী হামলা চালায়। গুরুতর আহতদের স্থানীয়রা উদ্ধার করে আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে চিকিৎসকরা প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। আহতদের মধ্যে কদভানু (৪৫) ও নুর নাহার (৩৫)-এর অবস্থা আশঙ্কাজনক।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দক্ষিণ তক্তাবুনিয়া গ্রামের মন্নাফ হাওলাদার ও জামাল গাজীর মধ্যে প্রায় ১৫ একর জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। গত ১১ নভেম্বর ওই জমির ঘাস কাটাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষে একাধিক ব্যক্তি আহত হন। পরে উভয় পক্ষ আদালতে মামলা দায়ের করেন। এর মধ্যে জামাল গাজীর মামলায় মন্নাফ হাওলাদার ও তার ১১ জন স্বজন বর্তমানে কারাগারে।
এ সুযোগে শুক্রবার বিকেলে আরিফ গাজীর নেতৃত্বে ২০–২৫ জনের একটি গ্রুপ ওই জমির ধান কাটতে গেলে মন্নাফ হাওলাদারের বাড়ির নারীরা বাধা দেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে হামলাকারীরা কদভানু, শেফালী (৪০), নুর নাহার, মমতাজ (৭০) ও সাদ্দাম হোসেনকে (৩০) এলোপাথাড়ি কুপিয়ে জখম করে।
ভুক্তভোগীরা ৯৯৯-এ ফোন দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায় এবং স্থানীয়দের সহায়তায় আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়। শহীদুল ইসলামের অভিযোগ, হামলাকারীরা পরে আহত কদভানুর ঘরে আগুন দেয় এবং হাসপাতালে চিকিৎসা দিতে বাধা দেয়। এমনকি তাকে মারধরও করা হয়।
এ ঘটনায় পুলিশ শুক্রবার রাতে জাকারিয়া, সগির ও লিপি বেগম নামের তিনজনকে আটক করেছে।
আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. রাশেদ মাহমুদ রোকনুজ্জামান বলেন, গুরুতর আহতদের শেবাচিম হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে, দুইজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
অভিযোগ অস্বীকার করে হলদিয়া ইউনিয়ন যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আরিফ গাজী বলেন, “আমি ঘটনাস্থলে ছিলাম না, আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ আনা হয়েছে।”
আমতলী থানার ওসি দেওয়ান জগলুল হাসান জানান, তিনজনকে আটক করা হয়েছে এবং বাকি অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।



















