০৬:০৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৯ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সহকারী শিক্ষকদের শাটডাউন কর্মসূচিতে বিপাকে ২৪ হাজার শিক্ষার্থী

আমতলীতে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে তালা, চতুর্থ দিনে পরীক্ষা বন্ধ

আমতলী (বরগুনা) প্রতিবেদক
  • প্রকাশের সময় ০৯:৫৯:২২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৩ ডিসেম্বর ২০২৫
  • / ২৬৫ Time View

বরগুনার আমতলী উপজেলার ১৫২টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষকরা শাটডাউন কর্মসূচি পালন করায় চতুর্থ দিনের মতো বুধবারও বার্ষিক পরীক্ষা বন্ধ রয়েছে। শিক্ষকরা বিদ্যালয়ে তালা ঝুলিয়ে দিয়ে পরীক্ষা বর্জন করেছেন।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. সফিউল আলম দাবি করেন, “বিদ্যালয়ে পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে।” তবে মাঠ পর্যায়ের পরিদর্শনে দেখা গেছে, অধিকাংশ বিদ্যালয়েই তালা ঝুলছে এবং কোথাও পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়নি।

দশম গ্রেডসহ তিন দফা দাবিতে গত ৮ নভেম্বর থেকে সারাদেশে প্রাথমিক শিক্ষকরা ঢাকার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন। মন্ত্রণালয়ের অনুরোধে তারা আন্দোলন স্থগিত করলেও, ১৭ দিনেও দাবি বাস্তবায়ন না হওয়ায় শিক্ষকরা গত বৃহস্পতিবার থেকে ফের শাটডাউন কর্মসূচি শুরু করেন।

সোমবার থেকে উপজেলায় বার্ষিক পরীক্ষা শুরু হওয়ার কথা থাকলেও বুধবার পর্যন্ত তা বন্ধ রয়েছে। এতে প্রায় ২৪ হাজার কোমলমতি শিক্ষার্থী এবং তাদের অভিভাবকরা দুশ্চিন্তায় ভুগছেন।

বুধবার সকালে আমতলী একে হাই সংলগ্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, বিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে তালা ঝুলছে, পরীক্ষার্থীরা বাইরে ছুটোছুটি করছে। গ্রামাঞ্চলের বিদ্যালয়গুলোতেও একই দৃশ্য—কোথাও পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়নি। ক্ষুব্ধ অভিভাবকদের কেউ কেউ তালা ভেঙে বিদ্যালয়ে প্রবেশ করেছেন বলে জানা গেছে।

আঙ্গুলকাটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী এনামুল, চাঁদনী ও শাহারা জানায়, “শিক্ষকরা তালা দিয়েছেন, তাই আমরা পরীক্ষা দিতে পারিনি।”

অভিভাবক রিপন মুনসি বলেন, “শিক্ষকরা তাদের দাবির পক্ষে তালা ঝুলিয়ে দিয়েছেন। আমার মেয়ে পরীক্ষা দিতে না পেরে বাড়ি ফিরে এসেছে।”

উক্ত বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. জাহিদুল ইসলাম লিটন জানান, সহকারী শিক্ষকরা শাটডাউন করতে বিদ্যালয়ে তালা দিয়েছেন, ফলে তিনি পরীক্ষা নিতে পারছেন না।

আমতলী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি ও চাওড়া পাতাকাটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. রবিউল ইসলাম বলেন, “আমার বিদ্যালয়ে ১০ জন সহকারী শিক্ষক রয়েছেন। তারা তালা ঝুলিয়ে দিয়েছেন। আমি নিরুপায় হয়ে বাইরে বসে আছি।”

বরগুনা জেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি ও একে হাই সংলগ্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক একেএম জিল্লুর রহমান জানান, “সকালে বিদ্যালয়ে এসে দেখি নতুন তালা দেওয়া। পরে অভিভাবকরা ক্ষুব্ধ হয়ে তালা ভেঙেছেন। তবে কোন সহকারী শিক্ষক উপস্থিত হননি।”

Please Share This Post in Your Social Media

সহকারী শিক্ষকদের শাটডাউন কর্মসূচিতে বিপাকে ২৪ হাজার শিক্ষার্থী

আমতলীতে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে তালা, চতুর্থ দিনে পরীক্ষা বন্ধ

প্রকাশের সময় ০৯:৫৯:২২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৩ ডিসেম্বর ২০২৫

বরগুনার আমতলী উপজেলার ১৫২টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষকরা শাটডাউন কর্মসূচি পালন করায় চতুর্থ দিনের মতো বুধবারও বার্ষিক পরীক্ষা বন্ধ রয়েছে। শিক্ষকরা বিদ্যালয়ে তালা ঝুলিয়ে দিয়ে পরীক্ষা বর্জন করেছেন।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. সফিউল আলম দাবি করেন, “বিদ্যালয়ে পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে।” তবে মাঠ পর্যায়ের পরিদর্শনে দেখা গেছে, অধিকাংশ বিদ্যালয়েই তালা ঝুলছে এবং কোথাও পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়নি।

দশম গ্রেডসহ তিন দফা দাবিতে গত ৮ নভেম্বর থেকে সারাদেশে প্রাথমিক শিক্ষকরা ঢাকার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন। মন্ত্রণালয়ের অনুরোধে তারা আন্দোলন স্থগিত করলেও, ১৭ দিনেও দাবি বাস্তবায়ন না হওয়ায় শিক্ষকরা গত বৃহস্পতিবার থেকে ফের শাটডাউন কর্মসূচি শুরু করেন।

সোমবার থেকে উপজেলায় বার্ষিক পরীক্ষা শুরু হওয়ার কথা থাকলেও বুধবার পর্যন্ত তা বন্ধ রয়েছে। এতে প্রায় ২৪ হাজার কোমলমতি শিক্ষার্থী এবং তাদের অভিভাবকরা দুশ্চিন্তায় ভুগছেন।

বুধবার সকালে আমতলী একে হাই সংলগ্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, বিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে তালা ঝুলছে, পরীক্ষার্থীরা বাইরে ছুটোছুটি করছে। গ্রামাঞ্চলের বিদ্যালয়গুলোতেও একই দৃশ্য—কোথাও পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়নি। ক্ষুব্ধ অভিভাবকদের কেউ কেউ তালা ভেঙে বিদ্যালয়ে প্রবেশ করেছেন বলে জানা গেছে।

আঙ্গুলকাটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী এনামুল, চাঁদনী ও শাহারা জানায়, “শিক্ষকরা তালা দিয়েছেন, তাই আমরা পরীক্ষা দিতে পারিনি।”

অভিভাবক রিপন মুনসি বলেন, “শিক্ষকরা তাদের দাবির পক্ষে তালা ঝুলিয়ে দিয়েছেন। আমার মেয়ে পরীক্ষা দিতে না পেরে বাড়ি ফিরে এসেছে।”

উক্ত বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. জাহিদুল ইসলাম লিটন জানান, সহকারী শিক্ষকরা শাটডাউন করতে বিদ্যালয়ে তালা দিয়েছেন, ফলে তিনি পরীক্ষা নিতে পারছেন না।

আমতলী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি ও চাওড়া পাতাকাটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. রবিউল ইসলাম বলেন, “আমার বিদ্যালয়ে ১০ জন সহকারী শিক্ষক রয়েছেন। তারা তালা ঝুলিয়ে দিয়েছেন। আমি নিরুপায় হয়ে বাইরে বসে আছি।”

বরগুনা জেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি ও একে হাই সংলগ্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক একেএম জিল্লুর রহমান জানান, “সকালে বিদ্যালয়ে এসে দেখি নতুন তালা দেওয়া। পরে অভিভাবকরা ক্ষুব্ধ হয়ে তালা ভেঙেছেন। তবে কোন সহকারী শিক্ষক উপস্থিত হননি।”