ব্যাংকের সুদেই অর্ধেকের বেশি ঋণ; চাষিদের অভিযোগ জটিলতা ও বিলম্বে বাড়ছে ক্ষতি
জামালপুরের জিল বাংলা সুগার মিলের ঋণ ৬৫৬ কোটি টাকা, চাপ নিয়েই শুরু হচ্ছে ৬৮তম মাড়াই মৌসুম
- প্রকাশের সময় ০৯:০২:৩৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ নভেম্বর ২০২৫
- / ২৪৩ Time View
জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জে অবস্থিত দেশের অন্যতম প্রাচীন শর্করা উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান জিল বাংলা সুগার মিলস লিমিটেডের মোট ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৬৫৬ কোটি ৭৫ লাখ টাকা। এর মধ্যে অর্ধেকের বেশি ঋণই ব্যাংকের সুদ। বিশাল এই ঋণভার নিয়েই মিলটি আজ শুক্রবার (২৮ নভেম্বর) বিকেলে শুরু করতে যাচ্ছে এ বছরের ৬৮তম আখ মাড়াই কার্যক্রম।
চিনিকল সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে ৭০ হাজার টন আখ মাড়াই এবং ৫ হাজার টন চিনি উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
১৯৫৭ সালে পাকিস্তান ও নিউজিল্যান্ড সরকারের আর্থিক ও কারিগরি সহায়তায় প্রতিষ্ঠিত এই কারখানাটি প্রথমে ‘জিল পাক সুগার মিলস’ নামে পরিচিত ছিল। স্বাধীনতার পরে এর নাম পরিবর্তন করে ‘জিল বাংলা সুগার মিলস লিমিটেড’ করা হয়। বাংলাদেশ সুগার অ্যান্ড ফুড ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশনের অধীনে পরিচালিত এই মিলটি দেশের প্রথম তিনটি চিনিকলের একটি।
প্রতিষ্ঠানটি প্রতিদিন ১,০১৬ টন আখ মাড়াই এবং ১০,১৫০ টন চিনি উৎপাদনের সক্ষমতা নিয়ে ১৯৫৮-৫৯ মৌসুমে প্রথম মাড়াই কার্যক্রম শুরু করে। স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালে এটি রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান হিসেবে ঘোষণা করা হয়। প্রতিষ্ঠার পর থেকে এখন পর্যন্ত ৬৭টি মৌসুমে আখ মাড়াই কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে, যার মধ্যে মাত্র ১৮টি মৌসুমে লাভ করেছে মিলটি।
চাষিদের অভিযোগ, মিলের সিন্ডিকেট ও নানা প্রশাসনিক জটিলতার কারণে প্রতিবছরই লোকসান বাড়ছে। আখের মূল্য পরিশোধে বিলম্ব, মূল্য निर्धারণে অনিয়ম এবং সিন্ডিকেটের চাপের কারণে তারা ক্ষতির মুখে পড়ছেন। সময়মতো আখ সরবরাহ করতে না পারায় ক্ষেতেই আখ শুকিয়ে যাওয়ার ঘটনাও ঘটে বলে জানান চাষিরা।
আখ চাষি হাশেম বলেন,
“কুশার আবাদ কইরা লাভ নাই, ধান আবাদ বাইড়ছে। কুশার মিলে দিয়া ট্যাহা পাইতে দেরি হয়। এই জন্য কুশার আবাদ কমাই দিছি।”
আরেক চাষি সামাদ বলেন,
“মিলের স্যাররা যদি কৃষকদের জন্য সবকিছু ঠিকমতো করে, তাইলে কুশার আবাদ আবার বাড়ব।”
জিল বাংলা সুগার মিলসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তারিকুল আলম বলেন,
সবাইকে উৎসাহিত করছি অন্যান্য ফসলের পাশাপাশি আখ চাষে ফিরে আসতে। তিনি জানান, সরকার ও শিল্প মন্ত্রণালয় থেকে পাঁচ বছর মেয়াদি রোডম্যাপ কার্যক্রম শুরু হয়েছে, যা মিল পুনরুজ্জীবনে ভূমিকা রাখবে।
তিনি আরও বলেন, পুরোনো এ মিলকে আধুনিকায়ন এবং বহুমুখী উৎপাদন ব্যবস্থা চালু করা গেলে এবং কৃষকদের আখ চাষ বৃদ্ধি করা সম্ভব হলে প্রতিষ্ঠানটি আবারও লাভের মুখ দেখবে।

















