০৫:০১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ জানুয়ারী ২০২৬, ১৬ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
নতুন হামলায় নবজাতকসহ বহু শিশুর মৃত্যু

যুদ্ধবিরতির পরও গাজায় সহিংসতা অব্যাহত: ইউনিসেফ বলছে, নিহত ৬৭ শিশু

সংবাদদাতাঃ
  • প্রকাশের সময় ০১:১৭:০৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ২২ নভেম্বর ২০২৫
  • / ৩০৩ Time View

গাজায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পরও শিশুহত্যা থামছে না। ১০ অক্টোবর থেকে কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতির পর গাজায় অন্তত ৬৭ জন শিশু নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘের শিশু বিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফ। সংস্থাটির মুখপাত্র রিকার্ডো পিরেস শুক্রবার জেনেভায় এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান।

নিহত শিশুদের মধ্যে রয়েছে দক্ষিণ গাজার খান ইউনিসে এক বাড়িতে ইসরাইলি বিমান হামলায় মারা যাওয়া একটি নবজাতক কন্যাশিশু। এর এক দিন আগে বিভিন্ন স্থানে ইসরাইলি বাহিনীর হামলায় আরও সাত শিশু নিহত হয়।

রিকার্ডো পিরেস সাংবাদিকদের বলেন,
“এগুলো শুধু সংখ্যা নয়। প্রতিটি শিশু একটি পরিবার, একটি স্বপ্ন, একটি জীবন—যা কয়েক মুহূর্তে সহিংসতায় শেষ হয়ে গেছে।”

জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে এখন পর্যন্ত গাজায় মোট ৬ হাজার ৪০০ ফিলিস্তিনি শিশু নিহত হয়েছে

এদিকে যুদ্ধবিরতির মধ্যেও ইসরাইলি বাহিনীর অগ্রসর হওয়া অব্যাহত রয়েছে। শুক্রবার গাজা উপত্যকার তুফ্ফাহ ও শুজাইয়া এলাকায় প্রায় ৩০০ মিটার পর্যন্ত ঢুকে পড়ে ইসরাইলি সাঁজোয়া যান। গাজা সিটি কর্তৃপক্ষ বলছে, ইয়েলো লাইন পশ্চিমে ঠেলে সামরিক এলাকা ইচ্ছাকৃতভাবে সম্প্রসারণ করা হচ্ছে, যার ফলে নিরাপদ ভেবে থাকা পরিবারগুলো আবারও বাস্তুচ্যুত হচ্ছে।

পূর্ব জেরুজালেমের কাফর আকাব এলাকায় ফিলিস্তিনি কিশোরদের গুলি করে হত্যা করেছে ইসরাইলি বাহিনী। নাবলুসের কাছে এক বাসিন্দাকে বাড়িতে ঢুকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে এবং রেড ক্রিসেন্ট কর্মীদের ঘটনাস্থলে ঢোকার অনুমতি দেয়া হয়নি।

আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তুবাস, জর্ডান ভ্যালি, বেথলেহেমসহ বিভিন্ন এলাকায় রাতভর অভিযান চালিয়েছে ইসরাইল। গ্রেফতার ও টিয়ার গ্যাসে অসুস্থ মানুষের সংখ্যা বাড়ছে। একই সঙ্গে ইসরাইলি বসতিস্থাপনকারীরা হুওয়ারা ও আবু ফালাহ এলাকায় ঘরবাড়ি পুড়িয়ে দিয়েছে।

ইউনিসেফ বলছে, এই পরিস্থিতি মনে করিয়ে দিচ্ছে—গাজার শিশুরাই এখনও সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে, এবং যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও সহিংসতা থামছে না।

Please Share This Post in Your Social Media

নতুন হামলায় নবজাতকসহ বহু শিশুর মৃত্যু

যুদ্ধবিরতির পরও গাজায় সহিংসতা অব্যাহত: ইউনিসেফ বলছে, নিহত ৬৭ শিশু

প্রকাশের সময় ০১:১৭:০৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ২২ নভেম্বর ২০২৫

গাজায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পরও শিশুহত্যা থামছে না। ১০ অক্টোবর থেকে কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতির পর গাজায় অন্তত ৬৭ জন শিশু নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘের শিশু বিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফ। সংস্থাটির মুখপাত্র রিকার্ডো পিরেস শুক্রবার জেনেভায় এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান।

নিহত শিশুদের মধ্যে রয়েছে দক্ষিণ গাজার খান ইউনিসে এক বাড়িতে ইসরাইলি বিমান হামলায় মারা যাওয়া একটি নবজাতক কন্যাশিশু। এর এক দিন আগে বিভিন্ন স্থানে ইসরাইলি বাহিনীর হামলায় আরও সাত শিশু নিহত হয়।

রিকার্ডো পিরেস সাংবাদিকদের বলেন,
“এগুলো শুধু সংখ্যা নয়। প্রতিটি শিশু একটি পরিবার, একটি স্বপ্ন, একটি জীবন—যা কয়েক মুহূর্তে সহিংসতায় শেষ হয়ে গেছে।”

জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে এখন পর্যন্ত গাজায় মোট ৬ হাজার ৪০০ ফিলিস্তিনি শিশু নিহত হয়েছে

এদিকে যুদ্ধবিরতির মধ্যেও ইসরাইলি বাহিনীর অগ্রসর হওয়া অব্যাহত রয়েছে। শুক্রবার গাজা উপত্যকার তুফ্ফাহ ও শুজাইয়া এলাকায় প্রায় ৩০০ মিটার পর্যন্ত ঢুকে পড়ে ইসরাইলি সাঁজোয়া যান। গাজা সিটি কর্তৃপক্ষ বলছে, ইয়েলো লাইন পশ্চিমে ঠেলে সামরিক এলাকা ইচ্ছাকৃতভাবে সম্প্রসারণ করা হচ্ছে, যার ফলে নিরাপদ ভেবে থাকা পরিবারগুলো আবারও বাস্তুচ্যুত হচ্ছে।

পূর্ব জেরুজালেমের কাফর আকাব এলাকায় ফিলিস্তিনি কিশোরদের গুলি করে হত্যা করেছে ইসরাইলি বাহিনী। নাবলুসের কাছে এক বাসিন্দাকে বাড়িতে ঢুকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে এবং রেড ক্রিসেন্ট কর্মীদের ঘটনাস্থলে ঢোকার অনুমতি দেয়া হয়নি।

আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তুবাস, জর্ডান ভ্যালি, বেথলেহেমসহ বিভিন্ন এলাকায় রাতভর অভিযান চালিয়েছে ইসরাইল। গ্রেফতার ও টিয়ার গ্যাসে অসুস্থ মানুষের সংখ্যা বাড়ছে। একই সঙ্গে ইসরাইলি বসতিস্থাপনকারীরা হুওয়ারা ও আবু ফালাহ এলাকায় ঘরবাড়ি পুড়িয়ে দিয়েছে।

ইউনিসেফ বলছে, এই পরিস্থিতি মনে করিয়ে দিচ্ছে—গাজার শিশুরাই এখনও সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে, এবং যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও সহিংসতা থামছে না।