শেরপুরের ঝিনাইগাতীতে গারো সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যবাহী ওয়ানগালা (নবান্ন) উৎসব শুরু হয়েছে। কার্ডিনাল প্যাট্রিক ডি. রোজারিওর উদ্বোধনে শুরু হওয়া তিন দিনব্যাপী এ উৎসবে থাকছে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, প্রতিযোগিতা, মেলা ও ঐতিহ্যবাহী রীতি।
ঝিনাইগাতীতে তিন দিনব্যাপী ওয়ানগালা উৎসব শুরু
- প্রকাশের সময় ০২:০৯:২৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২১ নভেম্বর ২০২৫
- / ২৭২ Time View
শেরপুরের ঝিনাইগাতীতে গারো সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যবাহী ও বৃহৎ সামাজিক উৎসব ওয়ানগালা (নবান্ন) শুরু হয়েছে। শুক্রবার (২১ নভেম্বর) সকাল ১১টায় মরিয়মনগর উচ্চবিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত তিন দিনব্যাপী এই উৎসবের উদ্বোধন করেন ঢাকা মহা ধমপ্রদেশের কার্ডিনাল বিশপ প্যাট্রিক ডি. রোজারিও।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, “উৎসব অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যতের সংযোগস্থল। এটি শুধু আনুষ্ঠানিকতা নয়; জীবনের উদযাপন, ঐতিহ্যের বহমানতা এবং ভবিষ্যত প্রজন্মের কাছে মূল্যবোধ সঞ্চার।”
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মরিয়মনগর মিশনের পালপুরোহিত ফাদার লরেন্স রিবেরু। বক্তব্য রাখেন প্যারিশ কাউন্সিলের ভাইস চেয়ারম্যান অনার্শন চাম্বুগং।
গারোদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উৎসব ওয়ানগালা। নতুন ফসল ঘরে তোলার পর দেবদেবীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ, শস্য দেবতা ‘মিসি সালজং’-এর উদ্দেশে উৎসর্গ ও অনুমতি প্রার্থনার মাধ্যমে উৎসবটি পালন করা হয়। এ কারণে অনেকে একে নবান্ন বা ‘ধন্যবাদের উৎসব’ও বলে থাকেন। ঢোল বাজনার জমকালো আয়োজনের কারণে এটিকে ‘একশ ঢোলের উৎসব’ নামেও পরিচিত।
এবারের তিন দিনব্যাপী উৎসবে রয়েছে কিশোর-কিশোরীদের চিত্রাঙ্কন, ছড়া (মান্দি ভাষায়), নৃত্য, মিস ওয়ানগালা প্রতিযোগিতা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, মেলা ও খেলাধুলা। এছাড়াও বাণী পাঠ, খামালকে খুখুব ও থক্কা প্রদান, জনগণকে থক্কা দেওয়া, পবিত্র খ্রিস্টযাগ, দান সংগ্রহ, আলোচনা, প্রার্থনা ও নকগাথা আয়োজন থাকবে। বিদ্যালয় মাঠে বসেছে ঐতিহ্যবাহী পোশাক, খাবার ও খেলনার মেলা।
ওয়ানগালা উৎসব কমিটির আহ্বায়ক ফাদার লরেন্স রিবেরু সিএসসি জানান, ১৯৮৫ সাল থেকে মরিয়মনগর সাধু জর্জের ধর্মপল্লীর উদ্যোগে এ উৎসব পালন করা হচ্ছে। গারোদের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি নতুন প্রজন্ম এবং বৃহত্তর সমাজের কাছে তুলে ধরাই এর মূল উদ্দেশ্য।
আগামী রবিবার বিকেলে উৎসবের সমাপ্তি হবে।





















