১২:২৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২৬, ২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
রংপুরের ব্যবসায়ী আশরাফুল হত্যা

প্রেমিকা শামীমা গ্রেফতার, ২৬ খণ্ডে লাশ উদ্ধার

বিশেষ প্রতিনিধি
  • প্রকাশের সময় ০৮:২৪:৩৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৫ নভেম্বর ২০২৫
  • / ২০৬ Time View

ঢাকার জাতীয় ঈদগাহ ময়দানের পাশে দুটি নীল ড্রামে যেভাবে উদ্ধার হলো ২৬ টুকরো করা এক অজ্ঞাত ব্যক্তির দেহ—তা দেখে হতবাক হয়েছিল সবাই। পরে আঙুলের ছাপ বিশ্লেষণে জানা গেলো, তিনি রংপুরের ব্যবসায়ী আশরাফুল হক। আর এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত ছিলেন তার বন্ধুই—জরেজুল ইসলাম।
সেই চক্রের গুরুত্বপূর্ণ সহযোগী এবং পরিকল্পনাকারী হিসেবে গ্রেফতার হয়েছেন জরেজের প্রেমিকা শামীমা আক্তার কোহিনুর (৩৩)।

গ্রেফতার কোথায় ও কীভাবে
র‌্যাব–৩ জানায়,১৪ নভেম্বর ভোরে কুমিল্লার লাকসামের বড় বিজরা গ্রামে নিজের বাড়ি থেকেই শামীমাকে আটক করা হয়। তার মোবাইল ফোন, ভিডিও ও ব্ল্যাকমেইলের আলামতসহ তাকে রাজধানীতে নেয়া হয়।

শনিবার (১৫ নভেম্বর) কারওয়ান বাজারে র‌্যাব মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য তুলে ধরেন র‌্যাব–৩ এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল ফায়েজুল আরেফীন।

হত্যার আগের কাহিনি: প্রেম ও টাকার লোভ
জরেজুল ইসলামের সঙ্গে শামীমার সম্পর্ক এক বছরের বেশি সময় ধরে।
জরেজুলের পরিকল্পনা ছিল—এক বন্ধুকে প্রেমে ফাঁসিয়ে ১০ লাখ টাকা ব্ল্যাকমেইল করা।
এর মধ্যে ৭ লাখ নেবে জরেজুল, ৩ লাখ পাবে শামীমা।

পরিকল্পনা অনুযায়ী শামীমা কয়েক মাস ধরে আশরাফুলের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ান।
অডিও–ভিডিও কলে ঘনিষ্ঠতা তৈরি করেন। বিশ্বাস অর্জন করেন।

১১ নভেম্বর রাতে আশরাফুল ঢাকায় আসেন জরেজুলের সঙ্গে।
এরপর তিনজন মিলে শনিরআখড়ার নূরপুরে একটি ফ্ল্যাট ভাড়া নেন।

কীভাবে ঘটলো হত্যা
১. অচেতন করার পর ভিডিও ধারণ
শামীমার বর্ণনা অনুযায়ী—
আশরাফুলকে মালটা জুসে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে খাইয়েছিল তারা।
অচেতন হওয়া মাত্রই ব্ল্যাকমেইলের জন্য শামীমা ও আশরাফুলের অন্তরঙ্গ ভিডিও ধারণ করে জরেজুল।

. নৃশংস হত্যাকাণ্ড
পরদিন দুপুরে আশরাফুল গভীরভাবে অচেতন হয়ে গেলে—জরেজ তাকে দড়ি দিয়ে বেঁধে মুখে কসটেপ লাগায়।
ইয়াবার নেশায় ভয়ংকর হয়ে ওঠে জরেজুল।
হাতুড়ি দিয়ে এলোপাতাড়ি আঘাত করে হত্যা করে।

লাশ পাশের কক্ষে রেখেই রাত কাটায় দু’জন।

৩. ২৬ টুকরো করা লাশ
পরদিন সকালে জরেজ বাজার থেকে চাপাতি ও দুটি প্লাস্টিক ড্রাম কেনে।
ঘণ্টার পর ঘণ্টা ধরে লাশ ২৬ খণ্ডে কেটে ড্রামের ভিতর ভরে।

দুপুরে একটি সিএনজি ভাড়া করে বাসা থেকে ড্রাম দুটি বের করে।
মাঝপথে গাড়ি পরিবর্তন করে হাইকোর্ট মাজার গেটের কাছে এগুলো ফেলে পালিয়ে যায়।

র‌্যাব যা উদ্ধার করেছে
শামীমার তথ্য অনুযায়ী শনিরআখড়ার বাসা থেকে উদ্ধার করা হয়েছে—রক্তমাখা পাঞ্জাবি ও পায়জামা,দড়ি,কসটেপ,শার্ট ও হাফপ্যান্ট,হত্যায় ব্যবহৃত,চাপাতির অংশবিশেষ

র‌্যাব বলছে, মূল উদ্দেশ্য ছিল টাকাপ্রাপ্তি, তবে ব্যক্তিগত শত্রুতার বিষয় আছে কি না—প্রধান আসামি জরেজুল গ্রেফতার হলে নিশ্চিত হওয়া যাবে।

শেষ গন্তব্য: শাহবাগ থানা
গ্রেফতার শামীমাকে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়ার জন্য শাহবাগ থানায় হস্তান্তর করা হবে।

Please Share This Post in Your Social Media

রংপুরের ব্যবসায়ী আশরাফুল হত্যা

প্রেমিকা শামীমা গ্রেফতার, ২৬ খণ্ডে লাশ উদ্ধার

প্রকাশের সময় ০৮:২৪:৩৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৫ নভেম্বর ২০২৫

ঢাকার জাতীয় ঈদগাহ ময়দানের পাশে দুটি নীল ড্রামে যেভাবে উদ্ধার হলো ২৬ টুকরো করা এক অজ্ঞাত ব্যক্তির দেহ—তা দেখে হতবাক হয়েছিল সবাই। পরে আঙুলের ছাপ বিশ্লেষণে জানা গেলো, তিনি রংপুরের ব্যবসায়ী আশরাফুল হক। আর এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত ছিলেন তার বন্ধুই—জরেজুল ইসলাম।
সেই চক্রের গুরুত্বপূর্ণ সহযোগী এবং পরিকল্পনাকারী হিসেবে গ্রেফতার হয়েছেন জরেজের প্রেমিকা শামীমা আক্তার কোহিনুর (৩৩)।

গ্রেফতার কোথায় ও কীভাবে
র‌্যাব–৩ জানায়,১৪ নভেম্বর ভোরে কুমিল্লার লাকসামের বড় বিজরা গ্রামে নিজের বাড়ি থেকেই শামীমাকে আটক করা হয়। তার মোবাইল ফোন, ভিডিও ও ব্ল্যাকমেইলের আলামতসহ তাকে রাজধানীতে নেয়া হয়।

শনিবার (১৫ নভেম্বর) কারওয়ান বাজারে র‌্যাব মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য তুলে ধরেন র‌্যাব–৩ এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল ফায়েজুল আরেফীন।

হত্যার আগের কাহিনি: প্রেম ও টাকার লোভ
জরেজুল ইসলামের সঙ্গে শামীমার সম্পর্ক এক বছরের বেশি সময় ধরে।
জরেজুলের পরিকল্পনা ছিল—এক বন্ধুকে প্রেমে ফাঁসিয়ে ১০ লাখ টাকা ব্ল্যাকমেইল করা।
এর মধ্যে ৭ লাখ নেবে জরেজুল, ৩ লাখ পাবে শামীমা।

পরিকল্পনা অনুযায়ী শামীমা কয়েক মাস ধরে আশরাফুলের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ান।
অডিও–ভিডিও কলে ঘনিষ্ঠতা তৈরি করেন। বিশ্বাস অর্জন করেন।

১১ নভেম্বর রাতে আশরাফুল ঢাকায় আসেন জরেজুলের সঙ্গে।
এরপর তিনজন মিলে শনিরআখড়ার নূরপুরে একটি ফ্ল্যাট ভাড়া নেন।

কীভাবে ঘটলো হত্যা
১. অচেতন করার পর ভিডিও ধারণ
শামীমার বর্ণনা অনুযায়ী—
আশরাফুলকে মালটা জুসে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে খাইয়েছিল তারা।
অচেতন হওয়া মাত্রই ব্ল্যাকমেইলের জন্য শামীমা ও আশরাফুলের অন্তরঙ্গ ভিডিও ধারণ করে জরেজুল।

. নৃশংস হত্যাকাণ্ড
পরদিন দুপুরে আশরাফুল গভীরভাবে অচেতন হয়ে গেলে—জরেজ তাকে দড়ি দিয়ে বেঁধে মুখে কসটেপ লাগায়।
ইয়াবার নেশায় ভয়ংকর হয়ে ওঠে জরেজুল।
হাতুড়ি দিয়ে এলোপাতাড়ি আঘাত করে হত্যা করে।

লাশ পাশের কক্ষে রেখেই রাত কাটায় দু’জন।

৩. ২৬ টুকরো করা লাশ
পরদিন সকালে জরেজ বাজার থেকে চাপাতি ও দুটি প্লাস্টিক ড্রাম কেনে।
ঘণ্টার পর ঘণ্টা ধরে লাশ ২৬ খণ্ডে কেটে ড্রামের ভিতর ভরে।

দুপুরে একটি সিএনজি ভাড়া করে বাসা থেকে ড্রাম দুটি বের করে।
মাঝপথে গাড়ি পরিবর্তন করে হাইকোর্ট মাজার গেটের কাছে এগুলো ফেলে পালিয়ে যায়।

র‌্যাব যা উদ্ধার করেছে
শামীমার তথ্য অনুযায়ী শনিরআখড়ার বাসা থেকে উদ্ধার করা হয়েছে—রক্তমাখা পাঞ্জাবি ও পায়জামা,দড়ি,কসটেপ,শার্ট ও হাফপ্যান্ট,হত্যায় ব্যবহৃত,চাপাতির অংশবিশেষ

র‌্যাব বলছে, মূল উদ্দেশ্য ছিল টাকাপ্রাপ্তি, তবে ব্যক্তিগত শত্রুতার বিষয় আছে কি না—প্রধান আসামি জরেজুল গ্রেফতার হলে নিশ্চিত হওয়া যাবে।

শেষ গন্তব্য: শাহবাগ থানা
গ্রেফতার শামীমাকে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়ার জন্য শাহবাগ থানায় হস্তান্তর করা হবে।