০৭:৩৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২৬, ৫ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
ময়মনসিংহ-৮ আসনে ধানের শীষ প্রার্থী লুৎফুল্লাহেল মাজেদের সঙ্গে সাংবাদিকদের মতবিনিময়

আয়নাঘরে নির্যাতনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরলেন বিএনপি প্রার্থী

সামদানি হোসেন বাপ্পী, ময়মনসিংহ
  • প্রকাশের সময় ০৪:১৭:৫৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৫ নভেম্বর ২০২৫
  • / ২০৫ Time View

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ময়মনসিংহ-৮ (ঈশ্বরগঞ্জ) আসনে বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রার্থী ও উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক প্রকৌশলী লুৎফুল্লাহেল মাজেদ বাবু সাংবাদিকদের সহযোগিতা চেয়ে এক মতবিনিময় সভা করেছেন।
মঙ্গলবার (১১ নভেম্বর) রাত ৮টায় ময়মনসিংহ শহরের একটি রেস্টুরেন্টে সাংবাদিকদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত এ মতবিনিময় সভায় তিনি নির্বাচনকে সামনে রেখে সাংবাদিকদের প্রতি নিরপেক্ষতা বজায় রেখে বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশের আহ্বান জানান।

সভায় আয়নাঘরে তার ওপর চালানো নির্যাতনের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে তিনি বলেন, “গত বছরের ৩০ জুলাই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একটি দল আমাকে গুলশানের বাসা থেকে তুলে নেয়। ফ্যাসিস্ট হাসিনার সরকারের পতনের পরদিন ৬ আগস্ট মুক্তি পাই। সিটিটিসির একটি বিশেষ দল আমাকে গুলশান থেকে তুলে নিয়ে আয়নাঘরে আটক করে। সেখানে আমার চোখ বেঁধে নির্যাতন চালানো হয়। মাত্র ৩০ মিনিট সময় দিয়ে আমাকে গুলি করে হত্যা করে আন্দোলনকারীদের গুলিতে নিহত হয়েছে বলে প্রচার করার পরিকল্পনা করা হচ্ছিল।”

তিনি আরও বলেন, “আমাকে জোর করে এমন একটি স্টেটমেন্টে স্বাক্ষর করানো হয়, যেখানে বলা হয় আমার নেতৃত্বে উত্তরা পূর্ব থানা পোড়ানো হয়েছে। সাংবাদিকরা আসলে যেনো বলি, আমি নিজেই ফান্ডিং করেছি এবং আরও কয়েকজনের নাম বলি—এমন চাপও দেওয়া হয়েছিল।”

প্রকৌশলী লুৎফুল্লাহেল মাজেদ বাবু বলেন, আয়নাঘরের মতো ভয়াবহ নির্যাতন থেকে বেঁচে ফিরবেন—এমন আশা তিনি করেননি। কিন্তু দল তাঁকে মনোনয়ন দিয়ে নতুন দায়িত্ব ও চ্যালেঞ্জ দিয়েছে। তিনি জানান,
“গত ১৭ বছরে ঈশ্বরগঞ্জের সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থার কোনো উন্নয়ন হয়নি। জনগণের ভোটে নির্বাচিত হতে পারলে যোগাযোগ, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও তরুণদের জন্য কর্মসংস্থান—এসব বিষয়কে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেবো।”

তিনি বলেন, তরুণ ও শিক্ষিত বেকারদের জন্য এ অঞ্চলে কোনো শিল্প বা কর্মসংস্থান নেই। আধুনিক প্রযুক্তি-নির্ভর দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলার লক্ষ্যে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণের প্রতিশ্রুতিও দেন তিনি।

নিজের রাজনৈতিক অনুপ্রেরণার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে বিএনপিতে পথচলা শুরু করি। মামলা, হামলা, আয়নাঘরের নির্যাতন—কিছুই আমাকে শহীদ জিয়ার আদর্শ থেকে বিচ্যুত করতে পারেনি। রাজনীতি আমার ব্যক্তিগত অর্জনের জন্য নয়—ঈশ্বরগঞ্জকে একটি আধুনিক ও শিক্ষিত উপজেলা হিসেবে গড়ে তোলাই আমার লক্ষ্য।”

দলীয় মনোনয়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান যে আত্মবিশ্বাসে তাঁকে ঈশ্বরগঞ্জ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী করেছেন, সেই বিশ্বাসের মর্যাদা রাখবে এখানকার জনগণ।

মতবিনিময় সভায় ময়মনসিংহ বিভাগের মূলধারার প্রায় অর্ধশত সাংবাদিক উপস্থিত ছিলেন।

 

Please Share This Post in Your Social Media

ময়মনসিংহ-৮ আসনে ধানের শীষ প্রার্থী লুৎফুল্লাহেল মাজেদের সঙ্গে সাংবাদিকদের মতবিনিময়

আয়নাঘরে নির্যাতনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরলেন বিএনপি প্রার্থী

প্রকাশের সময় ০৪:১৭:৫৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৫ নভেম্বর ২০২৫

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ময়মনসিংহ-৮ (ঈশ্বরগঞ্জ) আসনে বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রার্থী ও উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক প্রকৌশলী লুৎফুল্লাহেল মাজেদ বাবু সাংবাদিকদের সহযোগিতা চেয়ে এক মতবিনিময় সভা করেছেন।
মঙ্গলবার (১১ নভেম্বর) রাত ৮টায় ময়মনসিংহ শহরের একটি রেস্টুরেন্টে সাংবাদিকদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত এ মতবিনিময় সভায় তিনি নির্বাচনকে সামনে রেখে সাংবাদিকদের প্রতি নিরপেক্ষতা বজায় রেখে বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশের আহ্বান জানান।

সভায় আয়নাঘরে তার ওপর চালানো নির্যাতনের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে তিনি বলেন, “গত বছরের ৩০ জুলাই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একটি দল আমাকে গুলশানের বাসা থেকে তুলে নেয়। ফ্যাসিস্ট হাসিনার সরকারের পতনের পরদিন ৬ আগস্ট মুক্তি পাই। সিটিটিসির একটি বিশেষ দল আমাকে গুলশান থেকে তুলে নিয়ে আয়নাঘরে আটক করে। সেখানে আমার চোখ বেঁধে নির্যাতন চালানো হয়। মাত্র ৩০ মিনিট সময় দিয়ে আমাকে গুলি করে হত্যা করে আন্দোলনকারীদের গুলিতে নিহত হয়েছে বলে প্রচার করার পরিকল্পনা করা হচ্ছিল।”

তিনি আরও বলেন, “আমাকে জোর করে এমন একটি স্টেটমেন্টে স্বাক্ষর করানো হয়, যেখানে বলা হয় আমার নেতৃত্বে উত্তরা পূর্ব থানা পোড়ানো হয়েছে। সাংবাদিকরা আসলে যেনো বলি, আমি নিজেই ফান্ডিং করেছি এবং আরও কয়েকজনের নাম বলি—এমন চাপও দেওয়া হয়েছিল।”

প্রকৌশলী লুৎফুল্লাহেল মাজেদ বাবু বলেন, আয়নাঘরের মতো ভয়াবহ নির্যাতন থেকে বেঁচে ফিরবেন—এমন আশা তিনি করেননি। কিন্তু দল তাঁকে মনোনয়ন দিয়ে নতুন দায়িত্ব ও চ্যালেঞ্জ দিয়েছে। তিনি জানান,
“গত ১৭ বছরে ঈশ্বরগঞ্জের সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থার কোনো উন্নয়ন হয়নি। জনগণের ভোটে নির্বাচিত হতে পারলে যোগাযোগ, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও তরুণদের জন্য কর্মসংস্থান—এসব বিষয়কে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেবো।”

তিনি বলেন, তরুণ ও শিক্ষিত বেকারদের জন্য এ অঞ্চলে কোনো শিল্প বা কর্মসংস্থান নেই। আধুনিক প্রযুক্তি-নির্ভর দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলার লক্ষ্যে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণের প্রতিশ্রুতিও দেন তিনি।

নিজের রাজনৈতিক অনুপ্রেরণার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে বিএনপিতে পথচলা শুরু করি। মামলা, হামলা, আয়নাঘরের নির্যাতন—কিছুই আমাকে শহীদ জিয়ার আদর্শ থেকে বিচ্যুত করতে পারেনি। রাজনীতি আমার ব্যক্তিগত অর্জনের জন্য নয়—ঈশ্বরগঞ্জকে একটি আধুনিক ও শিক্ষিত উপজেলা হিসেবে গড়ে তোলাই আমার লক্ষ্য।”

দলীয় মনোনয়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান যে আত্মবিশ্বাসে তাঁকে ঈশ্বরগঞ্জ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী করেছেন, সেই বিশ্বাসের মর্যাদা রাখবে এখানকার জনগণ।

মতবিনিময় সভায় ময়মনসিংহ বিভাগের মূলধারার প্রায় অর্ধশত সাংবাদিক উপস্থিত ছিলেন।