০৫:২৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৯ নভেম্বর ২০২৫, ১৫ অগ্রহায়ণ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
ঘুমের গুরুত্ব: ইসলাম ও মানসিক সুস্থতার দিকনির্দেশনা

ফজরের পর ঘুমালে যে ক্ষতি হতে পারে

মাছুম আহমদ দুধরচকী
  • আপডেট সময় ০৩:৩৫:৫৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ নভেম্বর ২০২৫
  • / ৮৭ বার পড়া হয়েছে

ঘুম আল্লাহর একটি মহান নেয়ামত। এটি শুধুমাত্র শারীরিক বিশ্রামের মাধ্যম নয়, বরং মানসিক ও আত্মিক সুস্থতারও মূল চাবিকাঠি। একজন পূর্ণবয়স্ক মানুষের জন্য প্রতিদিন ৬-৭ ঘণ্টা ঘুম অপরিহার্য। ইসলাম ও আধুনিক বিজ্ঞান উভয়ই সঠিক ঘুমের গুরুত্বকে স্বীকৃতি দিয়েছে।

পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ বলেন, “তোমাদের ঘুমকে করেছি বিশ্রাম এবং রাতকে করেছি আবরণ।” (সুরা নাবা ৯-১০) এই আয়াত মানুষের দৈনন্দিন জীবনে সঠিক ঘুমের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে।

তবে ফজরের নামাজের পর ঘুমানোকে ইসলাম বিরোধিতা করেছে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, “হে আল্লাহ! আমার উম্মতের জন্য সকালে বরকত দান করুন।” (তিরমিজি ১২১২) অর্থাৎ ফজরের পর কাজ, ইবাদত বা আল্লাহর স্মরণে মনোযোগী হলে জীবনধারায় বরকতের পরিমাণ বৃদ্ধি পায়।

রাতের ঘুম সম্পর্কেও রাসুলুল্লাহ (সা.) নির্দেশ দিয়েছেন, “রাতের প্রথম ভাগে ঘুমাও এবং শেষ ভাগে ইবাদতের জন্য জেগে ওঠো। কারণ রাতের শেষভাগের ইবাদত বেশি ফজিলতপূর্ণ।” (সহিহ বুখারি ১১২০) সুতরাং রাতের প্রথম ভাগে ঘুমানোর অভ্যাস গড়ে তোলা উচিত।

ফজরের নামাজের পর বিশেষ কিছু আমল যেমন দোয়া-দরুদ, তসবিহ, তাহলিল ও জিকির করতে উৎসাহ দেওয়া হয়েছে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “যে ব্যক্তি ফজরের নামাজ জামাতে আদায় করে, সূর্যোদয় পর্যন্ত নামাজের স্থানে বসে আল্লাহর জিকিরে মশগুল থাকে, এরপর দুই রাকাত (ইশরাক) নামাজ আদায় করে, তার জন্য রয়েছে একটি হজ ও ওমরাহর পূর্ণ সওয়াব।” (তিরমিজি ৫৮৬)

রাতে ঘুমানোর আগে আল্লাহর নাম স্মরণ ও ইস্তেগফার করা সুন্নত। অতিরিক্ত ঘুম ও অলসতা মানসিক চাপ, উদ্বেগ ও হতাশা বাড়ায় এবং বরকতের সুযোগ কমিয়ে দেয়। ইসলাম সময়ের সঠিক ব্যবহার ও বরকত অর্জনের জন্য সুশৃঙ্খল জীবনধারার প্রতি আহ্বান জানায়।

লেখক: বিশিষ্ট ইসলামী চিন্তাবিদ ও কলামিস্ট হাফিজ মাছুম আহমদ দুধরচকী, সাবেক ইমাম ও খতীব, কদমতলী মাজার জামে মসজিদ, সিলেট।

নিউজটি শেয়ার করুন

ঘুমের গুরুত্ব: ইসলাম ও মানসিক সুস্থতার দিকনির্দেশনা

ফজরের পর ঘুমালে যে ক্ষতি হতে পারে

আপডেট সময় ০৩:৩৫:৫৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ নভেম্বর ২০২৫

ঘুম আল্লাহর একটি মহান নেয়ামত। এটি শুধুমাত্র শারীরিক বিশ্রামের মাধ্যম নয়, বরং মানসিক ও আত্মিক সুস্থতারও মূল চাবিকাঠি। একজন পূর্ণবয়স্ক মানুষের জন্য প্রতিদিন ৬-৭ ঘণ্টা ঘুম অপরিহার্য। ইসলাম ও আধুনিক বিজ্ঞান উভয়ই সঠিক ঘুমের গুরুত্বকে স্বীকৃতি দিয়েছে।

পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ বলেন, “তোমাদের ঘুমকে করেছি বিশ্রাম এবং রাতকে করেছি আবরণ।” (সুরা নাবা ৯-১০) এই আয়াত মানুষের দৈনন্দিন জীবনে সঠিক ঘুমের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে।

তবে ফজরের নামাজের পর ঘুমানোকে ইসলাম বিরোধিতা করেছে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, “হে আল্লাহ! আমার উম্মতের জন্য সকালে বরকত দান করুন।” (তিরমিজি ১২১২) অর্থাৎ ফজরের পর কাজ, ইবাদত বা আল্লাহর স্মরণে মনোযোগী হলে জীবনধারায় বরকতের পরিমাণ বৃদ্ধি পায়।

রাতের ঘুম সম্পর্কেও রাসুলুল্লাহ (সা.) নির্দেশ দিয়েছেন, “রাতের প্রথম ভাগে ঘুমাও এবং শেষ ভাগে ইবাদতের জন্য জেগে ওঠো। কারণ রাতের শেষভাগের ইবাদত বেশি ফজিলতপূর্ণ।” (সহিহ বুখারি ১১২০) সুতরাং রাতের প্রথম ভাগে ঘুমানোর অভ্যাস গড়ে তোলা উচিত।

ফজরের নামাজের পর বিশেষ কিছু আমল যেমন দোয়া-দরুদ, তসবিহ, তাহলিল ও জিকির করতে উৎসাহ দেওয়া হয়েছে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “যে ব্যক্তি ফজরের নামাজ জামাতে আদায় করে, সূর্যোদয় পর্যন্ত নামাজের স্থানে বসে আল্লাহর জিকিরে মশগুল থাকে, এরপর দুই রাকাত (ইশরাক) নামাজ আদায় করে, তার জন্য রয়েছে একটি হজ ও ওমরাহর পূর্ণ সওয়াব।” (তিরমিজি ৫৮৬)

রাতে ঘুমানোর আগে আল্লাহর নাম স্মরণ ও ইস্তেগফার করা সুন্নত। অতিরিক্ত ঘুম ও অলসতা মানসিক চাপ, উদ্বেগ ও হতাশা বাড়ায় এবং বরকতের সুযোগ কমিয়ে দেয়। ইসলাম সময়ের সঠিক ব্যবহার ও বরকত অর্জনের জন্য সুশৃঙ্খল জীবনধারার প্রতি আহ্বান জানায়।

লেখক: বিশিষ্ট ইসলামী চিন্তাবিদ ও কলামিস্ট হাফিজ মাছুম আহমদ দুধরচকী, সাবেক ইমাম ও খতীব, কদমতলী মাজার জামে মসজিদ, সিলেট।