০৮:০৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬, ২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
নতুন বিধিনিষেধে নারী রোগী ও স্বাস্থ্যকর্মীদের চিকিৎসা সেবা ব্যাহত হচ্ছে

হেরাতে নারীদের জন্য বোরকা বাধ্যতামূলক: স্বাস্থ্যসেবায় নতুন সংকট

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  • প্রকাশের সময় ০৭:১৪:৩৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১২ নভেম্বর ২০২৫
  • / ২৫৭ Time View

আফগানিস্তানে তালেবান কর্তৃপক্ষ নারী রোগী, সেবিকা ও কর্মীদের জন্য নতুন বিধিনিষেধ আরোপ করেছে। পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর হেরাতে সরকারি হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রে প্রবেশের আগে এখন নারীদের পুরো শরীর ঢেকে রাখা বোরকা পরা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

আন্তর্জাতিক চিকিৎসা সংস্থা মেডসঁ সঁ ফ্রঁতিয়ের (এমএসএফ) জানিয়েছে, ৫ নভেম্বর থেকে এই নিয়ম কার্যকর হয়েছে। সংস্থার আফগানিস্তান প্রোগ্রাম ম্যানেজার সারা শাতো বলেন, “এই বিধিনিষেধ নারীদের জীবনে নতুন বাধা তৈরি করছে এবং তাদের স্বাস্থ্যসেবায় সীমিত করছে। এমনকি যেসব নারীর জরুরি চিকিৎসা প্রয়োজন, তারাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।”

তবে তালেবান সরকারের মুখপাত্র এমএসএফ-এর অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “নারীদের জোর করে বোরকা পরানো হচ্ছে—এটি সম্পূর্ণ মিথ্যা।”

প্রতিবেদনে বলা হয়, আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়ার পর কিছুটা শিথিলতা আনা হলেও বাস্তবে হাসপাতালের প্রবেশপথে তালেবান সদস্যরা অবস্থান নিয়ে বোরকা না পরা নারীদের ভেতরে ঢুকতে দিচ্ছেন না।

সারা শাতো আরও জানান, “নতুন নিয়ম কার্যকর হওয়ার প্রথম কয়েক দিনে হেরাত আঞ্চলিক হাসপাতালে শিশু বিভাগের জরুরি রোগী ভর্তি ২৮ শতাংশ কমে গেছে।”

এদিকে তালেবানের ‘প্রচার ও নৈতিকতা রক্ষা মন্ত্রণালয়ের’ মুখপাত্র সাইফুল ইসলাম খায়বার দাবি করেছেন, “আমাদের অবস্থান কেবল হিজাবের বিষয়ে। বোরকা পরা বাধ্যতামূলক নয়। হিজাব মানে শরীর ঢেকে রাখা, যা অনেক মুসলিম নারী মাথার ওড়না হিসেবে ব্যবহার করেন।”

তিনি বলেন, “দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে হিজাবের ব্যাখ্যা ভিন্নভাবে করা হয়, যার অনেকটাই শরিয়াহ আইনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।”

Please Share This Post in Your Social Media

নতুন বিধিনিষেধে নারী রোগী ও স্বাস্থ্যকর্মীদের চিকিৎসা সেবা ব্যাহত হচ্ছে

হেরাতে নারীদের জন্য বোরকা বাধ্যতামূলক: স্বাস্থ্যসেবায় নতুন সংকট

প্রকাশের সময় ০৭:১৪:৩৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১২ নভেম্বর ২০২৫

আফগানিস্তানে তালেবান কর্তৃপক্ষ নারী রোগী, সেবিকা ও কর্মীদের জন্য নতুন বিধিনিষেধ আরোপ করেছে। পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর হেরাতে সরকারি হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রে প্রবেশের আগে এখন নারীদের পুরো শরীর ঢেকে রাখা বোরকা পরা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

আন্তর্জাতিক চিকিৎসা সংস্থা মেডসঁ সঁ ফ্রঁতিয়ের (এমএসএফ) জানিয়েছে, ৫ নভেম্বর থেকে এই নিয়ম কার্যকর হয়েছে। সংস্থার আফগানিস্তান প্রোগ্রাম ম্যানেজার সারা শাতো বলেন, “এই বিধিনিষেধ নারীদের জীবনে নতুন বাধা তৈরি করছে এবং তাদের স্বাস্থ্যসেবায় সীমিত করছে। এমনকি যেসব নারীর জরুরি চিকিৎসা প্রয়োজন, তারাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।”

তবে তালেবান সরকারের মুখপাত্র এমএসএফ-এর অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “নারীদের জোর করে বোরকা পরানো হচ্ছে—এটি সম্পূর্ণ মিথ্যা।”

প্রতিবেদনে বলা হয়, আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়ার পর কিছুটা শিথিলতা আনা হলেও বাস্তবে হাসপাতালের প্রবেশপথে তালেবান সদস্যরা অবস্থান নিয়ে বোরকা না পরা নারীদের ভেতরে ঢুকতে দিচ্ছেন না।

সারা শাতো আরও জানান, “নতুন নিয়ম কার্যকর হওয়ার প্রথম কয়েক দিনে হেরাত আঞ্চলিক হাসপাতালে শিশু বিভাগের জরুরি রোগী ভর্তি ২৮ শতাংশ কমে গেছে।”

এদিকে তালেবানের ‘প্রচার ও নৈতিকতা রক্ষা মন্ত্রণালয়ের’ মুখপাত্র সাইফুল ইসলাম খায়বার দাবি করেছেন, “আমাদের অবস্থান কেবল হিজাবের বিষয়ে। বোরকা পরা বাধ্যতামূলক নয়। হিজাব মানে শরীর ঢেকে রাখা, যা অনেক মুসলিম নারী মাথার ওড়না হিসেবে ব্যবহার করেন।”

তিনি বলেন, “দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে হিজাবের ব্যাখ্যা ভিন্নভাবে করা হয়, যার অনেকটাই শরিয়াহ আইনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।”