০৯:১৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৪ জানুয়ারী ২০২৬, ১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
রক্তমাখা চাকু ও চিরকুট উদ্ধার করেছে পুলিশ, সিআইডির ক্রাইম সিন টিম তদন্তে

হালুয়াঘাটে বাবা-মেয়ের গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার

সামদানি হোসেন বাপ্পী ময়মনসিংহ
  • প্রকাশের সময় ০৬:৩৮:০৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১২ নভেম্বর ২০২৫
  • / ২৬০ Time View

ময়মনসিংহে হালুয়াঘাটে শোবার ঘর থেকে বাবা ও মেয়ের গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। গুরুতর আহত অবস্থায় স্ত্রীকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১১ নভেম্বর) দিবাগত রাতে উপজেলার ভূবনকুড়া ইউনিয়নের দক্ষিণ আমিরখাকুড়া গ্রামে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন— শেরপুর জেলার নালিতাবাড়ী থানার খলিশাকুড়া গ্রামের মো. রতন মিয়া (৩০) ও তার মেয়ে নরিয়া আক্তার (৭)। আহত স্ত্রী মোছাঃ জুলেখা বেগম (২৫) বর্তমানে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন।

জানা যায়, প্রায় নয় বছর আগে রতন মিয়ার সঙ্গে হালুয়াঘাটের জুলেখা বেগমের বিয়ে হয়। তাদের দাম্পত্য জীবনে একমাত্র কন্যা নরিয়া জন্ম নেয়। রতন গাজীপুরে একটি গার্মেন্টসে শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন, আর জুলেখা দুই বছর আগে গৃহকর্মী হিসেবে দুবাই যান। বিদেশে অবস্থানকালে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়। সম্প্রতি জুলেখা ছুটি নিয়ে দেশে ফেরেন এবং দেড় মাস ধরে বাবার বাড়িতে অবস্থান করছিলেন।

মঙ্গলবার (১১ নভেম্বর) রাতে প্রতি সপ্তাহের মতো রতন মিয়া কর্মস্থল থেকে স্ত্রী-সন্তানের কাছে আসেন। রাত আনুমানিক ২টা থেকে ২টা ৩০ মিনিটের মধ্যে শোবার ঘর থেকেই স্থানীয়রা রক্তাক্ত অবস্থায় বাবা-মেয়ে ও মাকে দেখতে পান। খবর পেয়ে হালুয়াঘাট থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে খাটের ওপর মেয়ের ও মেঝেতে বাবার গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করে। গুরুতর আহত অবস্থায় জুলেখা বেগমকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়।

ঘটনাস্থল থেকে একটি রক্তমাখা চাকু ও একটি চিরকুট উদ্ধার করেছে পুলিশ, যা পর্যালোচনা করা হচ্ছে। মরদেহ দুটি ময়নাতদন্তের জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

হালুয়াঘাট সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. হাফিজুর রহমান বলেন, এটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড নাকি পারিবারিক বিরোধের জেরে সংঘর্ষের একপর্যায়ে ঘটে যাওয়া ঘটনা—তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

এদিকে, ময়মনসিংহ জেলা পুলিশের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, ঘটনাস্থল পরিদর্শনের জন্য সিআইডির বিশেষ ক্রাইম সিন টিমকে অবহিত করা হয়েছে এবং ঘটনাটির প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনের জন্য তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে। বর্তমানে এলাকায় পরিস্থিতি স্বাভাবিক আছে।

Please Share This Post in Your Social Media

রক্তমাখা চাকু ও চিরকুট উদ্ধার করেছে পুলিশ, সিআইডির ক্রাইম সিন টিম তদন্তে

হালুয়াঘাটে বাবা-মেয়ের গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার

প্রকাশের সময় ০৬:৩৮:০৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১২ নভেম্বর ২০২৫

ময়মনসিংহে হালুয়াঘাটে শোবার ঘর থেকে বাবা ও মেয়ের গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। গুরুতর আহত অবস্থায় স্ত্রীকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১১ নভেম্বর) দিবাগত রাতে উপজেলার ভূবনকুড়া ইউনিয়নের দক্ষিণ আমিরখাকুড়া গ্রামে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন— শেরপুর জেলার নালিতাবাড়ী থানার খলিশাকুড়া গ্রামের মো. রতন মিয়া (৩০) ও তার মেয়ে নরিয়া আক্তার (৭)। আহত স্ত্রী মোছাঃ জুলেখা বেগম (২৫) বর্তমানে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন।

জানা যায়, প্রায় নয় বছর আগে রতন মিয়ার সঙ্গে হালুয়াঘাটের জুলেখা বেগমের বিয়ে হয়। তাদের দাম্পত্য জীবনে একমাত্র কন্যা নরিয়া জন্ম নেয়। রতন গাজীপুরে একটি গার্মেন্টসে শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন, আর জুলেখা দুই বছর আগে গৃহকর্মী হিসেবে দুবাই যান। বিদেশে অবস্থানকালে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়। সম্প্রতি জুলেখা ছুটি নিয়ে দেশে ফেরেন এবং দেড় মাস ধরে বাবার বাড়িতে অবস্থান করছিলেন।

মঙ্গলবার (১১ নভেম্বর) রাতে প্রতি সপ্তাহের মতো রতন মিয়া কর্মস্থল থেকে স্ত্রী-সন্তানের কাছে আসেন। রাত আনুমানিক ২টা থেকে ২টা ৩০ মিনিটের মধ্যে শোবার ঘর থেকেই স্থানীয়রা রক্তাক্ত অবস্থায় বাবা-মেয়ে ও মাকে দেখতে পান। খবর পেয়ে হালুয়াঘাট থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে খাটের ওপর মেয়ের ও মেঝেতে বাবার গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করে। গুরুতর আহত অবস্থায় জুলেখা বেগমকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়।

ঘটনাস্থল থেকে একটি রক্তমাখা চাকু ও একটি চিরকুট উদ্ধার করেছে পুলিশ, যা পর্যালোচনা করা হচ্ছে। মরদেহ দুটি ময়নাতদন্তের জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

হালুয়াঘাট সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. হাফিজুর রহমান বলেন, এটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড নাকি পারিবারিক বিরোধের জেরে সংঘর্ষের একপর্যায়ে ঘটে যাওয়া ঘটনা—তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

এদিকে, ময়মনসিংহ জেলা পুলিশের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, ঘটনাস্থল পরিদর্শনের জন্য সিআইডির বিশেষ ক্রাইম সিন টিমকে অবহিত করা হয়েছে এবং ঘটনাটির প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনের জন্য তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে। বর্তমানে এলাকায় পরিস্থিতি স্বাভাবিক আছে।