৩ দিনে ৩২ হরিণ শিকারি আটক, পলিথিন ব্যবহারে পরিবেশের ক্ষতির অভিযোগ
পুণ্য স্নানের মাধ্যমে শেষ হল সুন্দরবনের দুবলারচরের ঐতিহাসিক রাস উৎসব
- প্রকাশের সময় ০৫:২৪:২৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ৫ নভেম্বর ২০২৫
- / ২৬৮ Time View
বঙ্গোপসাগরের লোনাজলে পুণ্য স্নানের মধ্য দিয়ে সুন্দরবনের দুবলারচরের আলোরকোলে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের তিন দিনব্যাপী ঐতিহাসিক রাস উৎসব শেষ হয়েছে।
বুধবার (০৫ নভেম্বর) ভোরে সূর্যোদয়ের সাথে সাথে হাজারো নারী-পুরুষ, শিশু ভক্তবৃন্দ আলোরকোল সংলগ্ন সমুদ্রসৈকতে পুণ্য স্নান করেন। পানির মধ্যেই নানা প্রার্থনা শেষে পূজা-আর্চনা করে নিজ নিজ গন্তব্যে রওনা হন তারা।
এর আগে সোমবার (০৩ নভেম্বর) সকালে বন বিভাগ ও পুলিশের প্রহরায় নদীপথে ভক্তরা দুবলারচরে পৌঁছে পূজা করেন। পরদিন মঙ্গলবার সারাদিন শ্রীকৃষ্ণের আরাধনা, গাজীকালুর পূজা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানসহ নানা ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান পালন করা হয়। রাতেও চলে পূজা-আর্চনা।
উৎসব উপলক্ষে মেডিকেল টিম, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ টহল দলসহ বন বিভাগের কর্মকর্তারা সতর্ক অবস্থানে ছিলেন। সনাতন ধর্মাবলম্বী ছাড়া অন্যদের বনে প্রবেশ নিষিদ্ধ থাকলেও বেশ কিছু লোক নিষিদ্ধ এলাকা প্রবেশ করে হরিণ শিকারের চেষ্টা করেন।
প্রথম দিন ৩ নভেম্বর দুপুরে হরিণ ধরার ফাঁদ পাতার সময় বনরক্ষীরা একজনকে আটক করলে সঙ্গে থাকা অন্য শিকারিরা বন কর্মকর্তাদের ওপর হামলা চালায়। এতে সহকারী বন সংরক্ষক (এসিএফ) রানা দেব আহত হন। পরে রাফি হাসান (২৬), শহিদ মল্লিক (২৮) ও আল-আমিন আকুঞ্জি (২৭) নামে তিনজনকে আটক করে আদালতে পাঠানো হয়।
তিন দিনে ছদ্মবেশে বনে প্রবেশ করা হরিণ শিকারিদের মধ্যে ৩২ জনকে আটক করেছে বন বিভাগ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। জব্দ করা হয়েছে হরিণ শিকারের কাজে ব্যবহৃত দুটি ট্রলার ও বিপুল পরিমাণ ফাঁদ। এছাড়া ধর্মীয় পরিচয় যাচাই করে নদীপথে অন্তত শতাধিক মুসলিম ব্যক্তিকে ফেরত পাঠানো হয়েছে।
এদিকে পুণ্য স্নানের সময় ভক্তরা সমুদ্রে প্রসাদ দেওয়ার জন্য বিপুল পরিমাণ পলিথিন ব্যবহার করেছেন, যা পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর বলে জানান পরিবেশকর্মীরা।
রাস উৎসব উদযাপন পরিষদ ও দুবলা ফিশারমেন গ্রুপের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. কামাল উদ্দিন আহমেদ জানান, প্রায় ২৩০ বছর ধরে সুন্দরবনে রাস উৎসব হয়ে আসছে। এ বছর বন বিভাগ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতায় উৎসব শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়েছে।
সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের ডিএফও মো. রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন, উৎসব উপলক্ষে বন বিভাগ, পুলিশ, র্যাব, কোস্টগার্ড, নৌপুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা মাঠে ছিলেন। তবুও কেউ কেউ ছদ্মবেশে বনে প্রবেশ করে হরিণ শিকারের চেষ্টা করেছে। আটক ৩২ শিকারির বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা চলছে।
তিনি আরও জানান, পরিবেশ দূষণ রোধে আগে থেকেই পূণ্যার্থীদের সচেতন করা হয়েছিল। তারপরও পলিথিন ব্যবহারের ঘটনা ঘটেছে। ভবিষ্যতে পলিথিন ব্যবহার রোধে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে




















