ঠিকাদারের লাপাত্তা, আদালতে রিট—কাজ পুনরায় শুরুর অপেক্ষায় স্থানীয়রা
নাগরপুরে রাস্তা খুঁড়ে কাজ বন্ধ, জনদুর্ভোগে এলাকাবাসী
- প্রকাশের সময় ০৯:০৪:০৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৩ নভেম্বর ২০২৫
- / ৩৮০ Time View
- টাঙ্গাইলের নাগরপুরে সড়কের এক পাশে মাটি খুড়ে উন্নয়ন কাজ না করেই দীর্ঘদিন ধরে কাজ ফেলে রেখেছে ঠিকাদার। স্থানীয় প্রশাসনের বারবার তাগিদেও কাজ ফেরেনি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান দুটি। এতে নাগরপুর-শাহজানী ভায়া গয়হাটা সড়ক দিয়ে চলাচলরত সাধারণ মানুষ পড়েছে চরম ভোগান্তিতে।
২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পল্লী সড়ক অবকাঠামো পুনর্বাসন প্রকল্পের আওতায় প্রায় ৯৭ কোটি ৭৫ লাখ টাকা চুক্তিমূল্যে মেসার্স কৃষ্ণা স্টুডিও ও এম/এস নাইস ট্রেডার্স-কে কাজের দায়িত্ব দেয় টাঙ্গাইল এলজিইডি কর্তৃপক্ষ। কাজ শুরু হয় ২ অক্টোবর ২০২৪ এবং শেষ হওয়ার কথা ছিল ২০২৫ সালের ৩০ এপ্রিল। কিন্তু মাত্র কয়েক দিন কাজ করেই ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান দুটি এলাকা ছেড়ে চলে যায়।
নাগরপুর-শাহজানী ভায়া গয়হাটা সড়কের বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গর্ত সৃষ্টি হয়েছে। বৃষ্টির পানিতে রাস্তা কাদা ও কর্দমাক্ত হয়ে চলাচল প্রায় অচল। বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ভিজে কাদা মাড়িয়ে বিদ্যালয়ে যাচ্ছে; রোগী পরিবহনও ব্যাহত হচ্ছে।
ইজিবাইক চালক আবুল বলেন, “রাস্তার পাশে গর্ত করে রাখায় ওভারটেক করতে গিয়ে মাঝেমধ্যে দুর্ঘটনা ঘটে।”
ব্যবসায়ী আলিম মিয়া জানান, “পণ্য পরিবহনের সময় ট্রাক-ভ্যান গর্তে আটকে যায়। সময়মতো পণ্য পৌঁছাতে না পারায় ব্যবসায় ক্ষতি হচ্ছে।”
পশ্চিম দুয়াজানী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শনে আসা উপজেলা সহকারী শিক্ষা অফিসার মীর সাইফুল ইসলাম বলেন, “স্কুলের সামনে গর্ত থাকায় বৃষ্টিতে পানি জমে। ছোট শিশুদের বিদ্যালয়ে আসা কষ্টকর হয়ে পড়েছে।”
উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) মো. তোরাপ আলী বলেন, “দীর্ঘদিন কাজ ফেলে রাখায় কার্যাদেশ বাতিল করা হয়েছে। তবে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলো হাইকোর্টে রিট করেছে। আমাদের পক্ষ থেকে আইনজীবী নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। রিট খারিজ হলে দ্রুত নতুন দরপত্র আহ্বান করা হবে।”
মেসার্স কৃষ্ণা স্টুডিওকে ৪৫০০ মিটার থেকে ৮৬৮৫ মিটার (৪.১৮৫ কিমি) অংশের দায়িত্ব দেওয়া হয় এবং এম/এস নাইস ট্রেডার্সকে ০ থেকে ৪৫০০ মিটার (৪.৫ কিমি) অংশের দায়িত্ব দেওয়া হয়। দুই প্রতিষ্ঠানের মোট চুক্তিমূল্য ৯৭ কোটি ৭৫ লাখ টাকা।




















