বৈরী আবহাওয়ায় জমির ধান গজাচ্ছে, স্বপ্নভঙ্গের শঙ্কায় কৃষক সমাজ
ঠাকুরগাঁওয়ে টানা বৃষ্টিতে নুয়ে পড়েছে আমন ধান, ভরাডুবির আশঙ্কায় কৃষক
- প্রকাশের সময় ০৮:৪৭:১৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৩ নভেম্বর ২০২৫
- / ৩১৭ Time View
উত্তরের কৃষি প্রধান জেলা ঠাকুরগাঁও। বড় কোনো শিল্প-কারখানা না থাকায় এখানকার সিংহভাগ মানুষ জীবিকা নির্বাহ করেন কৃষির উপর নির্ভর করে। তাই ফসলই তাদের জীবনের ভরসা ও আশার আলো। কিন্তু গত তিন দিনের টানা বৃষ্টি ও দমকা হাওয়ায় মাঠের আমন ধান মাটিতে নুয়ে পড়েছে। ফলে ধানের সঙ্গে নুয়ে পড়েছে কৃষকের স্বপ্নও।
গত বছর আগাম সবজি ও আলু চাষে ক্ষতির মুখে পড়েছিলেন জেলার কৃষকরা। তাই এ বছর অনেকেই লাভের আশায় আমন ধান চাষে ঝুঁকেছিলেন। কিন্তু বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপের কারণে সৃষ্ট বৈরী আবহাওয়ায় আবারো বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ইতোমধ্যেই মাঠে পড়ে থাকা ধানে গজাতে শুরু করেছে নতুন গাছ। জেলার সদর উপজেলা ছাড়াও রানীশংকৈল, হরিপুর, বালিয়াডাঙ্গী ও পীরগঞ্জসহ প্রতিটি উপজেলাতেই একই চিত্র।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ৩-৪ দিনে ঠাকুরগাঁওয়ে ২২.৭০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। বর্তমানে জেলায় ১ লাখ ৩৭ হাজার ২শ ৯০ হেক্টর জমিতে আমন ধানের চাষ হয়েছে। পাশাপাশি ৭ হাজার ৫শ হেক্টর জমিতে শীতকালীন সবজি আবাদ করার লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে, যার মধ্যে প্রায় ৪শ হেক্টরে ইতোমধ্যে আগাম সবজি চাষ সম্পন্ন হয়েছে।
রানীশংকৈল উপজেলার চোপড়া গ্রামের কৃষক হোসেন আলি বলেন, “আমি প্রায় ৩০ বিঘা জমিতে আমন রোপণ করেছিলাম। কিন্তু বৃষ্টি আর বাতাসের কারণে সব ধানই মাটিতে নুয়ে পড়েছে। কয়েকদিন আগে কারেন্ট পোকার আক্রমণে ক্ষতি হয়েছে, এখন বৃষ্টিতে সেই ধান নষ্ট হচ্ছে। মনে হচ্ছে এবার লাভ তো দূরের কথা, লোকসান গুনতে হবে।”
সদর উপজেলার ফকদনপুর এলাকার কৃষক নুরল ইসলাম জানান, “আগাম জাতের লম্বা ধান পুরোপুরি মাটির সাথে লেগে গেছে। অনেকেই ধান কাটলেও বৃষ্টির কারণে পানির মধ্যে তা শুকাতে পারছেন না। যদি পানি দ্রুত না নামে বা রোদ না আসে, তাহলে ধান পচে যাবে।”
ঠাকুরগাঁও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপপরিচালক (শস্য) আলমগীর কবীর বলেন, “গত তিন দিনের বৃষ্টিতে নিম্ন ও অতিনিম্ন জমির ধান মাটিতে নুয়ে পড়েছে। আমরা কৃষকদের পরামর্শ দিচ্ছি ধানগুলো গোছা করে বেঁধে দিতে, যাতে কিছুটা হলেও ক্ষতি কমানো যায়। একইসাথে জমির পানি দ্রুত নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করতে হবে। আশাকরি এতে বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়তে হবে না কৃষকদের।”





















